আজকাল ওয়েবডেস্ক: অল ইংল্যান্ড লন টেনিস ক্লাব ২০২৬ সালের উইম্বলডনের জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে। মোট পুরস্কার তহবিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪.২ মিলিয়ন পাউন্ড যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮২১.৮ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় পুরস্কারমূল্য ২০ শতাংশ বেশি। এটি টুর্নামেন্ট ইতিহাসে এক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর্থিক বৃদ্ধি।
এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন গ্র্যান্ড স্ল্যাম টেনিসে খেলোয়াড়দের আয়ের বণ্টন নিয়ে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই ফরাসি ওপেনের শীর্ষ খেলোয়াড়রা আয় বণ্টন কাঠামো নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকা ইয়ানিক সিনার এবং সাবালেঙ্কা-সহ একাধিক তারকা যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তাঁরা টুর্নামেন্টের আয়ের তুলনায় খেলোয়াড়দের অংশকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ফ্রেঞ্চ ওপেনের আয় বণ্টনে খেলোয়াড়দের অংশ ২০২৪ সালের ১৫.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে প্রজেক্টেড ১৪.৯ শতাংশে নেমে এসেছে।
এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শীর্ষ ১০ খেলোয়াড়রা তাঁদের প্রি-টুর্নামেন্ট সাংবাদিক বৈঠকে ১৫ মিনিটে সীমিত রাখেন, যা ১৫ শতাংশ আয় ভাগের প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাবালেঙ্কা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে দাবিগুলো পূরণ না হলে খেলোয়াড়রা গ্র্যান্ড স্ল্যাম বয়কটের মতো কঠোর পদক্ষেপও নিতে পারেন।
এই উত্তেজনার মধ্যেই উইম্বলডন কর্তৃপক্ষ আর্থিক পুরস্কার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুরুষ ও নারী একক চ্যাম্পিয়নরা পাবেন ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ড যা প্রায় ৪৬.১ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে প্রাথমিক রাউন্ডে। প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া খেলোয়াড়রা এখন পাবেন ৮০ হাজার পাউন্ড, যা আগে ছিল ৬৬ হাজার পাউন্ড। পাশাপাশি যোগ্যতা অর্জন পর্বের জন্য বরাদ্দ অর্থ ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.২ মিলিয়ন পাউন্ড করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু খেলোয়াড়দের চাপ কমাতেই নয়, বরং গ্র্যান্ড স্ল্যাম টেনিসে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারসাম্য বজায় রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।















