আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় ক্রীড়ায় অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলিকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। আজ বিধানসভায় বাজেটে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। 

কলকাতার তিন প্রধান--ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ও মহমেডান স্পোর্টিং-সহ মোট পাঁচটি ক্লাব এই অনুদানের আওতাভুক্ত। 

নানা জটিলতার মধ্যে দিয়ে এখন যাচ্ছে ডায়মন্ড হারবার। তাদের আইএসএল খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। জট কাটিয়ে ডায়মন্ড হারবার যদি শেষমেশ আইএসএল খেলে তারাও এই অনুদানের প্রাপক হবে। 

আর ডায়মন্ড হারবার যদি শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেয়, তাহলে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের জন্য আইএসএলের দরজা খুলে যেতে পারে। কারণ আই লিগ রানার্স আপ শিলং লাজং আগেই জানিয়ে দিয়েছে আইএসএল খেলার আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। বাংলার আরেক ক্লাব ইউনাইটেড স্পোর্টস আই লিগে খেলার সুবাদে এই অনুদানের আওতাভুক্ত। এই আর্থিক সহায়তা প্রভূত সাহায্য করবে ক্লাবগুলোকে। 

বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আরও জানান, রাজ্যে তৈরি করা হবে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি। উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে। 

রাজ্যে 'খেলো ইন্ডিয়া' শুরু হবে। ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হবে মিনি ইন্ডোর স্টেডিয়াম। যুবাদের মধ্যে অ্যাথলেটিক্স, পেশাদার স্পোর্টস ট্রেনিং ও কোচিং এবং স্পোর্টস সায়েন্সে কোর্স ইত্যাদি প্রসারের জন্য রাজ্যে একটি নতুন স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি স্থাপন করা হবে। এই ইউনিভার্সিটি রাজ্যে ক্রীড়া-সাফল্যের উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এজন্য বাজেটে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। 

উত্তরবঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম এবং একটি ইন্ডোর স্টেডিয়াম (অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শিলিগুড়িতে) তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হবে। এজন্য ২০ কোটি টাকা ব্যয়বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে যুবাদের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যে 'খেলো ইন্ডিয়া' কার্যক্রম চালু করা হবে। এই কার্যক্রমে সমস্ত বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি করে মিনি-ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপন করা হবে। 

এই আর্থিক বছরে ১০০টি এরকম স্টেডিয়ামের কাজ হাতে নেওয়া হবে। বিভিন্ন জেলায় বর্তমান স্টেডিয়ামগুলির সংস্কার করা হবে। কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামের সর্বাঙ্গীন সংস্কারসাধন ও উন্নয়ন করা হবে।

এই কারণে এই আর্থিক বছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বাজেটে। যুবাদের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য মেডেল বিজয়ীদের পুরস্কৃত করতে প্রতিযোগিতার প্রকৃতি অনুযায়ী তাদের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা থেকে শুরু করে ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অফ পুলিশ পোস্ট গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে একটি পলিসি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিজয়ীদের পুরস্কারের অর্থ দেওয়ার উদ্দেশে ৫০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে বাজেটে।