আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারতীয় দল। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজ সেই প্রস্তুতিরই প্রথম ধাপ। তবে দলের অন্দরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অমীমাংসিত রয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারতের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলেও ওয়ানডে দলে এখনও একই ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার ভবিষ্যৎ নিয়ে চলা জল্পনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সর্বভারতীয় স্তরের এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দলের কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার নিজেদের ২০২৭ বিশ্বকাপ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে সরাসরি বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। ফলে কোচ গম্ভীর ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকরের অবস্থান কিছুটা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।
টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই রোহিত ও কোহলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকের মতে, গম্ভীরের ভাবনা এবং নির্বাচকদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও এই পরিস্থিতির পিছনে ভূমিকা রেখেছে।
২০২৬ সালের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা চলাকালীন কোহলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এমন অবস্থায় নেই যেখানে বারবার নিজেকে প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে রোহিত শর্মা ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন এনেছেন বলেও মনে করা হচ্ছে।
বিসিসিআইয়ের এক সূত্রের দাবি, দল পরিচালনা এবং সিনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে এখনও পূর্ণ সমন্বয় তৈরি হয়নি। সূত্রটি জানিয়েছে, ''দলে এত বড় মাপের ক্রিকেটার থাকলে অধিনায়ক শুভমন গিলের ড্রেসিংরুমে আরও দৃঢ় ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। গম্ভীর এখনও ওয়ানডে পরিকল্পনায় টেস্ট বা টি-টোয়েন্টির মতো গভীরভাবে জড়াননি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক গতিতেই চলতে দিয়েছেন।”
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ''এখন যেহেতু বিশ্বকাপ প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে, তাই গম্ভীর ও গিলের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া দরকার। বহু বছর ধরে দেশকে সাফল্য এনে দেওয়া সিনিয়র ক্রিকেটারদের স্পষ্টভাবে জানানো উচিত, দল তাদের কাছ থেকে কী ধরনের ভূমিকা আশা করছে এবং আগামী ১৬ মাসের পরিকল্পনা কী।''
উল্লেখ্য, চলতি বছরের নভেম্বরে ৩৮ বছরে পা দেবেন বিরাট কোহলি। অন্যদিকে রোহিত শর্মার বয়স ইতিমধ্যেই ৩৯।
ফলে ২০২৭ বিশ্বকাপে তাঁদের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই পরিস্থিতিতে গম্ভীর, গিল এবং টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে বিষয়টি সামাল দেন, তার উপরই অনেকটা নির্ভর করবে ভারতের পরবর্তী বিশ্বকাপ স্বপ্ন।















