আজকাল ওয়েবডেস্ক: শক্তি বাড়িয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার ক্রিস ইকোনোমিডিসকে ২ বছরের চুক্তিতে সই করাল লাল-হলুদ। সেই সঙ্গে পঞ্চম বিদেশি স্থির করে ফেলল লাল-হলুদ। 

মাত্র চার বছর বয়সে ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় হয় অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার ক্রিস ইকোনোমিডিসের। বড় ভাইয়ের দলে, যেখানে তাঁর মা ছিলেন কোচ, প্রথমবারের মতো অনুশীলনে অংশ নেন তিনি। তখন তার নিজের কোনও ফুটবল জার্সি ছিল না।  স্কুল ইউনিফর্ম পরেই অনুশীলনে নেমেছিলেন। ছোট্ট পায়ে ছিল একজোড়া নতুন বুট। প্রথম দিনের অনুশীলন শেষ করেই মাকে বলেছিলেন, “মা, এটাই আমি। যে কোনও মূল্যে আমি একজন পেশাদার ফুটবলার হতে চাই।”

সেদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়া পর্যন্ত পা থেকে বুট খোলেননি তিনি। সেই মুহূর্ত থেকেই ফুটবলের প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়, যা পরবর্তীতে তার ব্যক্তিত্ব ও জীবনকে গড়ে তোলে।

শৈশব থেকেই সবাইকে বলে বেড়াতেন, একদিন তিনি পেশাদার ফুটবলার হবেন। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে ১৫ বছর বয়সে। তার ক্লাব সাদারল্যান্ড শার্কস ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত নাইকি কাপ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পায়। সেখানে উপস্থিত থাকবেন অসংখ্য স্কাউট, এমন খবর জানার পরই প্রথমবারের মতো নিজের স্বপ্নকে বাস্তব সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে শুরু করেন ইকোনোমিডিস।

এক সাক্ষাৎকারে ইকোনোমিডিস বলেছিলেন, বিকেল ৩টেয় ম্যাচ থাকলেও সকাল ৮টা থেকেই ফুটবল বুট পরে প্রস্তুত থাকতেন। মাঠে নেমে দৌড়ানো, গোল করা এবং সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন—সবকিছুই ছিল নিখাদ আনন্দের অংশ।

তবে ফুটবলের পথ সবসময় সহজ ছিল না। ইকোনোমিডিস বলেন, ফুটবল যেমন তাকে বারবার হৃদয়ভঙ্গের স্বাদ দিয়েছে, তেমনি প্রতিবারই নতুন করে এই খেলার প্রেমে ফেলেছে। তবুও তিনি কৃতজ্ঞ, কারণ ফুটবল তাকে দিয়েছে বন্ধুত্ব, শক্তিশালী পারিবারিক সম্পর্ক এবং জীবনের অসংখ্য আনন্দের মুহূর্ত।

বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল সকারুজ-এর হয়ে গোল করার পর গ্যালারিতে বাবা-মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু দেখার অনুভূতিকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন। 

ইকোনোমিডিসের অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড় উৎস তার পরিবার। ফুটবল-পরিবেশে বড় না হলেও তার বাবা-মা শুরু থেকেই ছেলের সঙ্গে এই পথচলায় ছিলেন। কেরিয়ারের প্রতিটি সাফল্য ও ব্যর্থতা তারা সমানভাবে ভাগ করে নিয়েছেন। তাই নিজের ফুটবল যাত্রাকে তিনি কখনওই একার অর্জন মনে করেন না। বরং পুরো পরিবারের সম্মিলিত সংগ্রাম হিসেবেই দেখেন।

কৈশোরে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমান এবং প্রথমে আতালান্তার যুব দলে খেলেন। পরে ইতালির অন্যতম শীর্ষ ক্লাব এসএস লাজিওর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। ইউরোপীয় ফুটবলের কঠোর পরিবেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। 

লাজিও থেকে ধারে সালের্নিতানায় খেলতে গিয়ে শুরুতে সিনিয়র খেলোয়াড়দের কঠিন আচরণের শিকার হন। তবে কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তিনি নিয়মিত একাদশে নিজের জায়গা নিশ্চিত করেন। খেলেছেন পার্থ গ্লোরি, মেলবোর্ন ভিকট্রির মতো ক্লাবে। খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের হয়েও। সেই ইকোনোমিডিসকে এবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে খেলতে  দেখা যাবে। এখন থেকেই আশায় বুক বাঁধছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা।