আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মেগাফাইনালের জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই এল ভয়ঙ্কর খবর। হৃদয় বিদারক এই খবরে সব উথালপাতাল হয়ে যায়। ঈশান কিষান কি অন্য ধাতুতে তৈরি মানুষ? সেই শোক সামলে তিনি বিশ্বকাপ খেলতে নামলেন। নেমেই ২৫ বলে ৫৪ রানের বিস্ফোরক এক ইনিংস খেললেন। রকেট গতিতে নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ গুঁড়িয়ে তিনি আর সঞ্জু রকেট গতিতে রান তুললেন। 

মূল গল্পে ফেরা যাক। গাড়ি দুর্ঘটনায় ঈশান কিষানের মাসতুতো বোন মারা যান ফাইনালের ঠিক আগেরদিন। ভারতের বিশ্বজয় তিনি উৎসর্গ করেছেন সেই প্রয়াত মাসতুতো বোনের উদ্দেশে। ঈশান বলছেন, ''সত্যি কথা বলতে কী, খেলার আগে খবর পেয়েছিলাম আমার মাসতুতো বোন গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। আমি ওর জন্যই ভাল খেলেছি। হার্দিক ভাইকে বলেছিলাম। হার্দিক ভাই বলেছিল, দলের কথা চিন্তা করতে। বাকি সব ভুলে যেতে। এই জয় আমি আমার বোনকে উৎসর্গ করলাম। নারী দিবসও ছিল আজ। ফলে সবঅর্থেই এই ইনিংস ছিল আমার কাছে স্পেশ্যাল।'' 

ঈশান কিষান সেই অবাধ্য ছেলে, যিনি বোর্ডের কথা না শোনায় কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই ছেলেই ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ফিরে আসেন জাতীয় দলে। তার পরের ঘটনা ইতিহাস। শুধু ব্যাট হাতে নয়, ফিল্ডিংয়েও ঈশান কিষান কিন্তু আলো জ্বেলে গিয়েছেন। উইকেট কিপারের নিজস্ব জায়গা তিনি হারিয়েছিলেন। শরীর ছুড়ে যে ক্যাচ তিনি ধরলেন, তাতে কিন্তু বলাই যাবে না যে ঈশান কিষান নিজস্ব জায়গা ছেড়ে অন্যত্র ফিল্ডিং করছেন। বিশ্বজয়ের পরে ঈশান কিষান বলেন, ''আমি চিন্তাভাবনা করা বন্ধ করে দিয়েছি। নিজের কাজ করে যাও। যে জিনিস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করাই উচিত নয়।বিরাটভাইও এটাই করে থাকে।'' 
 স্বজন বিয়োগের আঘাত সামলেও বিশ্বকাপ ফাইনালে এমন মারকুটে ব্যাটিং করা সম্ভব, ঈশান কিষানকে না দেখলে বিশ্বাসই হতো না।