আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের ছাড়পত্র আগেই পেয়ে গিয়েছিল ভারত। নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। বলা যেতে পারে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামার আগে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল একপ্রকার ড্রেস রিহার্সাল।
সেই ম্যাচেও ভারত দাপট বজায় রেখে জিতল। ভারতের ১৯৩ রানের জবাবে নেদারল্যান্ডস থেমে গেল ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে।
নিয়মরক্ষার নেদারল্যান্ডস ম্যাচে ভারতীয় দলের প্রথম একাদশে জোড়া বদল। পাক ম্যাচের প্রথম একাদশ থেকে বাদ গেলেন অক্ষর প্যাটেল ও কুলদীপ যাদব। দলে অক্ষরের বদলে এলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। আর কুলদীপের জায়গায় এলেন অর্শদীপ। যদিও অক্ষরকে সুপার এইটের আগে বিশ্রাম দেওয়া হল। আর ওয়াশিংটনকে সুপার এইটের ম্যাচের আগে দেখে নেওয়ার জন্যই খেলানো হচ্ছে। চোট সারিয়ে এটাই টি–২০ বিশ্বকাপে ওয়াশিংটনের প্রথম ম্যাচ। সবচেয়ে আশ্চর্যের এই ম্যাচে খেলছেন বুমরা। বুধবার সকালেই শোনা গিয়েছিল বুমরাকে হয়ত খেলানো হবে না। কিন্তু বুমরা প্রথম একাদশে রয়েছেন। গ্রুপের শেষ ম্যাচে টস জিতে সূর্যকুমার যাদব প্রথমে ব্যাট নেন।
অভিষেক শর্মার সময়টা একদম ভাল যাচ্ছে না। তিনটি ম্যাচ তিনি খেলেছেন এ যাবৎ, আর তিনটি ম্যাচেই তিনি খাতা খোলেননি। আমেরিকা, পাকিস্তান ম্যাচের পরে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধেও তিনি শূন্য রান করেন। মাত্র তিন বল তিনি টেকেন। তার পরে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। ধীর পায়ে তিনি ফিরে যান ডাগ আউটে।
পাক ম্যাচের হিরো ঈশান কিষান এদিন ৭ বলে ১৮ রান করেন। তিলক ভার্মা (৩১) ও সূর্যকুমার যাদব (৩৪) রান পেলেও ভারতের রান সেভাবে বাড়েনি। শিবম দুবে এদিন উজ্জ্বল। ৩১ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলেন দুবে। ৪টি বাউন্ডারি ও ৬টি ছক্কার সাহায্যে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৩ রান করে। হার্দিক পাণ্ডিয়া ২১ বলে ৩০ রান করলেও ঠিকঠাক টাইমিং করতে পারছিলেন না।
এই রান তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাল। মাইকেল লেভিট, ম্যাক্স ও ডাউড, বাস ডি লিডে, কলিন অ্যাকেরম্যান এবং শেষের দিকে জ্যাক লায়ন ক্যাশে ও নোয়া ক্রোয়েশ লড়লেও ভারতের এই বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে এঁটে ওঠা সম্ভব নয়। দিনের শেষে নেদারল্যান্ডসের ১৭৬ রান আকর্ষণীয় মনে হলেও ম্যাচ অনেক আগেই ভারতের শিবিরে ঢুকে পড়েছিল। নেদারল্যান্ডসের খেলোয়াড়রা টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁছনোর একটা চেষ্টা করেছিল। শেষ ওভারে নেদারল্যান্ডসের ২৮ রান দরকার ছিল জেতার জন্য। শেষ ওভারে জোড়া ক্যাচ পড়ল। প্রথমবার সূর্যকুমার যাদব ও রিঙ্কু সিংয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে ক্যাচ পড়ে। পরের বলেই তিলক ভার্মা ক্যাচ ফেলেন। শেষ ওভারের চতুর্থ বলে অবশ্য ক্যাচ ধরেন ওয়াশিংটন সুন্দর। ততক্ষণে ভারত জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছে। শেষমেশ ভারত ১৭ রানে ম্যাচ জিতল। আহমেদাবাদে শোনা গেল বন্দেমাতরম ধ্বনি।
