সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ক্রিকেটের নন্দনকাননের সবুজ গালিচার মাঝে সাদা কভার দিয়ে পিচ ঢাকা। দু'দিকে চুটিয়ে চলছে অনুশীলন। ক্লাব হাউজের ডান প্রান্তের নেটে ব্যাটিংয়ে মগ্ন ঈশান কিষাণ, অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মারা।‌ বাঁ দিকের নেট বোলারদের দখলে। প্রাধান্য পায় স্পিনাররা। অক্ষর প্যাটেল, কুলদীপ যাদব, ওয়াশিংটন সুন্দরদের হাত ঘোরাতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময় সন্ধে ছ'টা থেকে ছিল ভারতের প্র্যাকটিস। কিন্তু তার অনেকটা আগে প্রায় বিকেল শোয়া পাঁচটায় ইডেনে প্রবেশ করে ভারতীয় দল। স্টেডিয়ামের বাইরে সেই চিরাচরিত ছবি। সূর্যকুমারদের এক ঝলক পেতে ভিড় জমায় সমর্থকরা। কিন্তু বিরাট-রোহিত জমানার সেই উন্মাদনা মিসিং। যদিও টিম ইন্ডিয়ার অনুশীলনের সময় ক্লাব হাউজের লোয়ার টায়ারে পরিচিত ছবি। যা ইডেন সহ দেশের যেকোনো স্টেডিয়ামে ভারতের ম্যাচের আগের দিন দেখা যায়। বিশাল আকারের দুটো তেরঙ্গা, সঙ্গে শঙ্খধ্বনি। আর সুধীরের সেই পরিচিত মুখ। ভারতের জার্সি পরিহিত, মাথায় দেশের ম্যাপ আঁকা, হাতে জাতীয় পতাকা। মাঠে তখন মগ্ন টিম গম্ভীর। 

বাবার শেষকৃত্যের জন্য পরিবারের সঙ্গে রয়ে গিয়েছেন রিঙ্কু সিং। দলের সঙ্গে কলকাতায় আসেননি। কিন্তু শনিবার রাতেই ভারতীয় শিবিরের সঙ্গে যোগ দেবেন রিঙ্কু। ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। কিন্তু প্রাক ম্যাচ চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে অনুপস্থিত হার্দিক পাণ্ডিয়া এবং সঞ্জু স্যামসন। ইডেনে দলের সঙ্গে অনুশীলনে হাজির ছিলেন না দুই তারকা ক্রিকেটার। বাকি সবাই নিজেদের প্র্যাকটিসে ডুবিয়ে দেন। ভারতের ট্রেনিংয়ে মোট ছ'টি নেট। ক্লাব হাউজের দুই প্রান্তে দুটো করে চারটে। মূল পিচের দু'দিকে দুটো। ব্যাটারদের প্রথম নেটে বেশ কিছুক্ষণ ব্যাট করতে দেখা যায় ঈশানকে। কিন্তু নজর কাড়লেন অভিষেক। প্রথম নেটে ব্যাটার বদল হলেও, দ্বিতীয় নেটে একটানা ব্যাট করতে দেখা যায় অভিষেককে। প্রায় ঘণ্টাখানেক ব্যাট করেন বাঁ হাতি ওপেনার। তবে নেট বোলারের বিরুদ্ধে কয়েকবার পরাস্ত হন। 

বাঁ দিকের বোলিং নেটে ব্যাটে-বলে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান অক্ষর। কুলদীপের বলে ব্যাট করতে দেখা যায় অলরাউন্ডারকে। ছন্দে থাকা বরুণ চক্রবর্তীর এটা ঘরের মাঠ। কেকেআরের হয়ে ইডেনে খেলেন। মূল উইকেটের পাশের নেটে একাই হাত ঘোরান রহস্য স্পিনার। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ইডেনে দুটো ম্যাচ খেলে ফেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইতালি এবং স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতেছে। এখানকার পরিবেশ এবং পিচের সঙ্গে ওয়াকিবহাল। সঙ্গে রয়েছে পাওয়ার হিটিং। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৮৩ রানে ৭ উইকেট হারানো সত্ত্বেও জেসন হোল্ডার এবং রোমারিও শেফার্ডের জুটিতে ১৭০ রানের গণ্ডি পার করে ক্যারিবিয়ানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার হিটিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতের ভরসা দৈবশক্তি। কলকাতায় পা রেখেই পরের দিন সকালে কালীঘাট মন্দিরে পূজা দিতে যান গৌতম গম্ভীর। বাদ যাননি প্লেয়াররাও। শনিবার বিকেলে অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আগে কালীঘাটে পুজো দিতে ছোটেন সূর্যকুমার যাদব, অভিষেক শর্মা এবং অক্ষর প্যাটেল। নেটে ব্যাট করার সময় কোনও অর্ডার ফলো করা হয়নি। মন্দির হয়ে একটু দেরীতে প্র্যাকটিসে নামেন সূর্য। প্রায় সন্ধে ৬.২০ মিনিটে ব্যাট হাতে ইডেনের বাইশ গজে নামতে দেখা যায় ভারত অধিনায়ককে। এদিন বিশেষ ওয়ার্কলোড নিতে দেখা যায়নি যশপ্রীত বুমরাকে। মর্নি‌ মরকেলের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করতে দেখা যায়। পিচের পাশের পিচে গম্ভীরের কড়া নজরদারিতে ব্যাট করেন শিবম দুবে। ইডেনে অলরাউন্ডারের বল করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ঘন্টা দুয়েক চলে সিরিয়াস প্রস্তুতি। হালকা মেজাজে ছিলেন বুমরা। বি ব্লকের গ্যালারির দিকে ভক্তদের অটোগ্রাফের আবদার মেটান বুমরা। রবিবাসরীয় রাতে কোটি কোটি ভারতবাসীর আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারবেন কিনা সেটাই দেখার।