মোহনবাগান - ২ (ম্যাকলারেন, দিমিত্রি)

চেন্নাইন - ০

সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: ম্যাচের বয়স ৬৫ মিনিট। গোল করে গ্যালারির দিকে ছুটে গেলেন। তারপর উরু চাপড়ে সেই চিরাচরিত সেলিব্রেশন দিমিত্রি পেত্রাতোসের। কাকতালীয় হলেও, এক বছর আগে একই দিনে ওড়িশার বিরুদ্ধে গোল করেছিলেন অজি তারকা। তাঁর ইনজুরি টাইমের গোল নিশ্চিত করেছিল লিগ শিল্ড জয়। সেদিন বিপক্ষের বেঞ্চে ছিলেন সার্জিও লোবেরা। এবার ভূমিকা বদলেছে। দিমির গোলে উচ্ছ্বাসে মাতলেন স্প্যানিশ কোচ। আইএসএলের শুরুতে জোড়া জয়। কেরল ব্লাস্টার্সের পর চেন্নাইন এফসি। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নদের মতো শুরু করল মোহনবাগান। সোমবার রাতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ২-০ গোলে জয় সবুজ মেরুনের। জোড়া গোল জেমি ম্যাকলারেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতোসের। আরও একবার নিজের জাত চেনান অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধের অধিকাংশ সময় বোতলবন্দী ছিলেন। কয়েকবার ছিটকে বেরোনোর চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। কিন্তু একটি সুযোগ পেয়েই কেল্লাফতে। ম্যাচের ৪৫+৪ মিনিটে ১-০ করেন জেমি। তার ২০ মিনিট পর তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেন দিমি।

যুবভারতী থেকে কাট টু কিশোর ভারতী। সেদিন ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় তাঁর ওপর চড়াও হয়েছিল মোহনবাগান জনতা। ভাঙচুর হয় দিমিত্রির গাড়ি। কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার বদলে গিয়েছে ছবি। ফের বাগান জনতার নয়নের মণি দিমি। তাঁর সঙ্গে উচ্ছ্বাসে মাতে ২২ হাজারের গ্যালারি। আগের বছরের শুরুতে হোসে মোলিনার বাগানে জায়গা হত না। কিন্তু এবার কোচ বদলাতেই প্রথম একাদশে ফেরেন পেত্রাতোস। প্রথম ম্যাচ থেকেই খেলছেন। কেরল ম্যাচের দলে এদিন কোনও পরিবর্তন করেননি লোবেরা। সামনে ম্যাকলারেন এবং পেত্রাতোসকে দিয়ে শুরু করেন। তাতেই বাগানে আগাম বসন্ত। 

লোবেরা বরাবরই পাসিং ফুটবলে বিশ্বাসী। আদ্যপান্ত স্প্যানিশ ঘরানা। সোম সন্ধের নিজেদের মধ্যে অসংখ্য পাস খেলে বাগান ফুটবলাররা। কিন্তু নৈপুণ্যের অভাব ছিল। গোল পেতে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলেও, একপেশে ম্যাচ। আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারত সবুজ মেরুন। নিশ্চিত গোল মিস করেন পেত্রাতোস, মনবীর। বিপক্ষের আটজন ডিফেন্সে নেমে যাওয়ায় চেন্নাইয়ের পায়ের জঙ্গলে বারবার আটকে যায় ম্যাকলারেনরা। দুই উইং কাজে লাগিয়ে আক্রমণ শানায় বাগান। তারমধ্যে বেশি কার্যকরী লিস্টন। ডানদিক থেকে বেশ কয়েকবার আক্রমণ তৈরি হয়। প্রথম সুযোগ ১২ মিনিটে। রবসনের কর্নার থেকে অনিরুদ্ধ থাপার দূরপাল্লার শট বাইরে যায়। প্রথমার্ধে আরও দুটো সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু দিমিত্রি এবং রবসনের শট সরাসরি তালুবন্দি করে চেন্নাইয়ের গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ। মাত্র২৮ মিনিট মাঠে ছিলেন চেন্নাইয়ের কিপার। মেহতাবের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। নামানো হয় দ্বিতীয় কিপার সমিক মিত্রকে। 

ম্যাচের আগাগোড়াই দাপট ছিল বাগানের। নজর কাড়েন অনিরুদ্ধ থাপা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ পান জেমি। কিন্তু লিস্টনের পাস থেকে ম্যাকলারেনের শট পোস্টে লাগে। তবে বিরতির আগেই প্রায়শ্চিত্ত করেন অজি। থাপার থ্রু থেকে বিপক্ষের কিপারকে কাটিয়ে তেকাঠিতে রাখেন। প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া গোল। পুরোপুরি রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে চেন্নাই। সুতরাং, গোল হজম করা ছিল সময়ের অপেক্ষা। বিরতির পর চাপ বাড়ায় মোহনবাগান। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। কিন্তু নিশ্চিত সুযোগ মিস জেমি, দিমি, মনবীরদের। তবে মরশুমের শুরুতেই গোলের খাতা খোলেন পেত্রাতোস। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে শুভাশিসের ক্রস থেকে গোল দিমিত্রির।‌ মোহনবাগানের পরের ম্যাচ মহমেডানের বিরুদ্ধে।