আজকাল ওয়েবডেস্ক: হরভজন সিং এবং শ্রীসন্থের ‘স্ল্যাপগেট’ বিতর্ক ফের মাথা চাড়া দিয়ে উঠল আইপিএলে। প্রাক্তন ভারতীয় পেসার শ্রীসন্থ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন হরভজন সিংয়ের।
কেরালাইট পেসারের অভিযোগ, ওই কুখ্যাত ঘটনাকে হাতিয়ার করে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন হরভজন। মনে করা হচ্ছিল, গত ১৮ বছরে দু’জনের মধ্যে বিবাদ মিটে গিয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি একটি টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনে ২০০৮ সালের বিতর্ককে হাস্যরসের মোড়কে তুলে ধরাই শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান শ্রীসন্থ।
তাঁর দাবি, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভাজ্জিকে ক্ষমা করলেও বিজ্ঞাপনে ওই ঘটনার ব্যবহার মেনে নিতে পারেননি। শ্রীসন্থের অভিযোগ, ওই বিজ্ঞাপন থেকে হরভজন প্রায় ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করেছেন।
শুধু তাই নয়, সেই ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্যও তাঁকে অনুরোধ করা হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে শ্রীসন্ত বলেন, ‘আমি কখনও ভাজ্জি সম্পর্কে কোনও সাক্ষাৎকারে কিছু বলিনি। এবারই প্রথম বলছি। এতদিন কোনও সমস্যা ছিল না। কিন্তু আবার সেই ঘটনা নিয়ে বিজ্ঞাপন বানানো হয়েছে। তিনি তা থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। তারপর আমাকে ফোন করে ভিডিওটি শেয়ার করতে বলেন। আমি বলেছি, ক্ষমা করতে পারি, কিন্তু ভুলব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে যদি ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তাহলে সে আবার একই কাজ আবার করবে। ওটাই এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এতে কোনও সন্দেহ নেই।’ শ্রীসন্থের বক্তব্যে একটা বিষয় স্পষ্ট।
তিনি মনে করেন, হরভজনের মধ্যে আসলেই অনুশোচনার অভাব রয়েছে। বরং জনসমক্ষে ‘ভ্রাতৃত্বের’ যে ছবি তুলে ধরা হয়, সেটাকে অভিনয় বলেই মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তির সঙ্গে আমার আর কোনও সম্পর্ক নেই। একসময় ভাই বলতাম। কিন্তু গত এক-দু’মাসে যা হয়েছে, তার পর আমি ওঁকে ইনস্টাগ্রামে ব্লক করেছি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার বাবা-মা আমাকে শিখিয়েছেন ক্ষমা করতে, কিন্তু ভুলে না যেতে। আমার কোনও অভিযোগ নেই, ওঁর প্রয়োজনও নেই। ঈশ্বর ওঁর পরিবারকে ভাল রাখুন।
অনেক সাক্ষাৎকারে, এমনকী অশ্বিনের সঙ্গেও কথা বলতে গিয়ে, তিনি আমার মেয়ের প্রসঙ্গ তোলেন। মানুষ ভাববে কী ভাল মানুষ! হয়তো উনি আসলেই ভালো মানুষ।
কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায়, ভারতীয় দলে খেলার সময় থেকে এখন পর্যন্ত সবটাই আমার কাছে অভিনয় বলে মনে হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, গত বছর প্রাক্তন আইপিএল চেয়ারম্যান ললিত মোদি ওই ঘটনার একটি হাই-ডেফিনিশন ভিডিও প্রকাশ করেন।
যা প্রায় দু’দশক ধরে সংরক্ষিত ছিল। সেই ভিডিও সামনে আসার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সেই সময় হরভজন ঘটনাটিকে ভুল বলে স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছিলেন। তবে শ্রীসন্থ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সেই একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে কোটি কোটি টাকা কামায় সে কোনও ভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়।















