সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: সেমিফাইনাল নয়, "শামিফাইনাল"। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মহম্মদ শামির বিধ্বংসী সাত উইকেটের পর বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এটা ভাসছে। বাংলার পেসার একার হাতেই ধ্বংস করে দেন কিউয়িদের ব্যাটিং লাইন আপ। উইলিয়ামসন, মিচেলের পার্টনারশিপ না ভাঙলে কী হত বলা মুশকিল। কিন্তু দলে যখন একটা শামি আছে, চিন্তা কীসের! ভারতীয় দলের ভরসার নাম মহম্মদ শামি। কিন্তু প্র্যাকটিসের সময় নেটে কতটা ভয়ঙ্কর তিনি? শুভমন গিল জানিয়ে দিলেন, সেখানেও শামিকে খেলা কঠিন। তবে এই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি উপভোগ করেন। শুভমন বলেন, "নেটেও শামিকে খেলা কঠিন। যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। আমরা একেবারেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি না। শুধু শামি নয়, বুমরাকেও খেলা বেশ কঠিন। তবে আমি এটা উপভোগ করি। পেসারদের বিরুদ্ধে নিজেকে তৈরি করতে সুবিধা হয়।" 

বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে উপেক্ষিত। দলের দ্বাদশ ব্যক্তি হয়ে বিরাট, রোহিতদের জন্য মাঠে জল বয়ে নিয়ে যেতেও দেখা গিয়েছে। কিন্তু বিচলিত হয়নি। নিজেকে শান্ত রেখেছিলেন। অপেক্ষা করেন সুযোগের। যা জীবনের শুরু থেকেই করে আসছেন। সালটা ২০০৭। উত্তরপ্রদেশের জোরে বোলার খেলতে এল কলকাতায়। ময়দানের অপ্রধান একটি ক্লাব ডালহৌসির হয়ে খেলতেন। দু"বছর সেখানে থেকে চলে যান টাউন ক্লাবে। শামি একটির পর একটি উইকেট নিলে তাঁর বরাদ্দ ছিল এক প্লেট বিরিয়ানি। বিরিয়ানির লোভে মাঠে আগুন ঝরাতেন। জহুরি যেমন জহর চেনে, ঠিক সেই ভাবেই শামিকে চিনতে পেরেছিলেন তপন চাকি। ময়দানের পোড়খাওয়া এক ক্রিকেট স্কাউট। এরপর শামিকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ময়দানের বড় দল, রঞ্জি ট্রফিতে বাংলায়, দলীপ ট্রফিতে পূর্বাঞ্চলে খেলে শামির উত্থান ভারতীয় দলে। ব্যক্তিগত জীবনে বহু উত্থান-পতন এসেছে। কিন্তু লক্ষ্য স্থির ছিল। গ্যালারিতে কোনও অনুষ্কা তাঁর জন্য ফ্লায়িং কিস ছোড়েন না, কোনও সারা তেন্ডুলকর ভিভিআইপি বক্সে বসে উৎকণ্ঠায় থাকেন না। ম্যাচ শেষে কোনও প্রেয়সীর ফোনও হয়তো আসে না। শামির অবশ্য এসব দিকে মন দেওয়ার অবকাশ নেই। তাঁর পাখির চোখ আহমেদাবাদে। ফাইনালেও ম্যাচের সেরা হতে চান রোহিতের ট্রাম্পকার্ড।