আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইংল্যান্ড সফর হতাশাজনকভাবে শেষ হওয়ার পর বারবার চোট-আঘাতের সমস্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভারতের একদিনের ক্রিকেট দলের অধিনায়ক শুভমন গিল। বিশেষ করে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট এখন টিম ম্যানেজমেন্টের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অব এক্সেলেন্স, ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফের মধ্যে ফিটনেস সংক্রান্ত যোগাযোগে ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিসিসিআইয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, 'সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হ্যামস্ট্রিং চোটের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অনেক ক্রিকেটার সম্পূর্ণ ফিট না হয়েই মাঠে নেমে পড়ছে। সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে একজন ক্রিকেটারের ফিটনেস এবং ওয়ার্কলোড নিয়ে যথাযথ সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।'
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর কর্মী পরিবর্তনের পর নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়ছেন ক্রিকেটাররা। এছাড়া নীতিন প্যাটেল দায়িত্ব ছাড়ার পর এখনও পর্যন্ত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে মেডিক্যাল বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়নি। ওয়াশিংটন সুন্দর, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং হর্ষিত রানার মতো ক্রিকেটাররা বারবার চোটে ভুগেছেন। নিজের গতি বাড়ানোর জন্য নীতীশ রেড্ডি ইংল্যান্ডের বোলিং কোচ স্টেফান জোন্সের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তবে বিসিসিআই সূত্রের মতে, বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন পরিবর্তন ধীরে ধীরে হওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তে তিনি দলে থাকাকালীন প্রতিবারই আরও জোরে বল করার চেষ্টা করেছেন, যা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়াও হর্ষিত রানা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, হাঁটুর চোটের আগে যে ওজন ছিল, তা ফিরে না পেলেও টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স তাঁকে খেলার ছাড়পত্র দেয়। এই ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে টি-২০ বিশ্বকাপের সময় ওয়াশিংটন সুন্দরকেও সম্ভবত তাড়াহুড়ো করে দলে যোগ দিতে বলা হয়েছিল। সূত্রের দাবি, দলে যোগ দেওয়ার পর ম্যাচ খেলার মতো ফিট হতে ওয়াশিংটনের অন্তত ১০ দিন সময় প্রয়োজন ছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট চলাকালীন তাঁকে দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এর প্রভাব পরবর্তীতে পড়ে থাকতে পারে। এছাড়াও জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে না থাকাকালীন বিসিসিআইয়ের মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে পর্যাপ্ত যোগাযোগ না থাকায় অনেক ক্রিকেটার উদ্বিগ্ন। সূত্রের দাবি, এখন খুব কম ক্রিকেটারই সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলে। আন্তর্জাতিক সিরিজের মাঝে অনেকেই পর্যাপ্ত বিরতি পায়। কিন্তু সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে পুনর্বাসন না চললে তাঁদের প্রায় নিজেদের মতো করেই ফিটনেস সামলাতে হয়। সেই সময় মেডিক্যাল টিমের সঙ্গে যোগাযোগ খুবই সীমিত থাকে। এতে সমস্যা বাড়ে।
















