আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবারের মধ্যে বিশ্বকাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল পাকিস্তানের। একদিন আগেই পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাঁরা বিশ্বকাপ খেলবে, কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করবে। কলম্বোয় ১৫ ফেব্রুয়ারি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে মহারণ। কিন্তু বাংলাদেশের সমর্থনে এমন সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান সরকার। এই সিদ্ধান্তের জন্য বড় শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পাকিস্তানকে। বিশ্বকাপ থেকে ব্যান করে দেওয়া হতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শেষপর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে, প্রায় ২০০ কোটি ক্ষয়ক্ষতি হবে দুই বোর্ডের। ভারতের জন্য ধাক্কা হলেও, সামলে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান বোর্ডের অস্তিত্ব সংকটে। আইসিসির আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহার ফোর্স মেজরের অধীনে পড়ে না।
পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট নিয়ে এবার মুখ খুললেন সলমন আলি আঘা। পাকিস্তানের অধিনায়ক জানান, এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করার এক্তিয়ার তাঁদের নয়। সরকার এবং বোর্ডের সিদ্ধান্ত মানতে হবে ক্রিকেটারদের। সলমন আঘা বলেন, 'অবশ্যই আমরা যাব। তবে সেটা আমাদের সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের এই বিষয়ে কিছু বলার এক্তিয়ার নেই। তাই আমরা কিছু করতে পারব না। আমাদের সরকার এবং চেয়ারম্যান যা নির্দেশ দেবে, সেটা আমাদের মানতে হবে। আমরা সেটাই করব।' অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় টি-২০ ম্যাচের আগে এমন বলেন পাক অধিনায়ক।
পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার রশিদ লতিফ। একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে ভারতও এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নিরপেক্ষ ভেন্যু এবং হাইব্রিড মডেল সেই জন্যই করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতির বিচার করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নির্বাচন আসন্ন, বাংলাতেও তাই। এই সবকিছু বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত।' টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই। যদিও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হতে দু'সপ্তাহ বাকি আছে। পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে। পাকিস্তান শেষপর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেললে, সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে তাঁদের বরখাস্ত করা হতে পারে। এছাড়াও পাকিস্তান সুপার লিগে খেলার জন্য ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বিদেশি ক্রিকেটারদের। যা পিএসএলের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়াও আইসিসির আয়ের কোনও লভ্যাংশ পাবে না পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
