আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। যে কারণে একাধিক শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে পিসিবিকে।
কিন্তু যে কোনও খেলায় কোনও ম্যাচে কোনও এক দল খেলতে না গেলেও এমন একটি নিয়ম রয়েছে যার জন্য বয়কট করা দল সবরকমের শাস্তি এড়িয়ে যেতে পারে। এই নিয়মের নাম হল ফোর্স ম্যাজিওর।
২০২৩-২৪ মরশুমে ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খেলতে যায়নি মোহনবাগান। কিন্তু তারপরেও এএফসির তরফে কোনও শাস্তি দেওয়া হয়নি কলকাতার ক্লাবকে। জানানো হয়, ফোর্স ম্যাজিওর নিয়মের আওতায় মোহনবাগানকে শাস্তির আওতায় ফেলা হচ্ছে না।
এবার আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ না খেলার ঘটনাকে আইসিসির ফোর্স ম্যাজিওর ধারার আওতায় আনা যায় কি না, এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় আইনি বিতর্ক।
সাধারণত ফোর্স ম্যাজিওর প্রযোজ্য হয় এমন পরিস্থিতিতে, যা অপ্রত্যাশিত ও অনিবার্য। যেমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় অথবা এমন চরম রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেখানে অংশগ্রহণ অসম্ভব হয়ে পড়ে, কেবল অনিচ্ছুক হওয়া নয়।
আইসিসি সূত্রের মতে, এই ম্যাজিওরের যুক্তি টিকিয়ে রাখা পাকিস্তানের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। ফোর্স ম্যাজিওর ধারা খুবই সীমিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ভাবে আপত্তি থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ধারার আওতায় পড়ে না।
স্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বা অংশগ্রহণে অক্ষমতার প্রমাণ না থাকলে ফোর্স ম্যাজিওরের ধারা পাকিস্তানের পক্ষে প্রমাণ করা সম্ভব নয়।
আইসিসি সূত্র জানাচ্ছে, যদি এই সিদ্ধান্তকে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হয়। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এমনকী, সাময়িক নির্বাসনের মতো শাস্তিও সম্ভব। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ তাৎক্ষণিক নয়,। অতীতে প্রতিযোগিতার কাঠামো ক্ষুণ্ণ হলে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিয়েছে এমন নজিরও রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, এই ‘নির্বাচিত বয়কট’ কি আইসিসির নিয়মে আদৌ বৈধ?
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রযুক্তিগতভাবে কোনও দল একটি নির্দিষ্ট ম্যাচে না নামতেই পারে। এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু এর ফলাফল অত্যন্ত কঠোর হতে পারে।
আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশন অনুযায়ী, কোনও দল মাঠে নামতে অস্বীকার করলে প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার দেওয়া হয়। ভারতের ক্ষেত্রে, নির্ধারিত ভেন্যুতে উপস্থিত থাকলেই তারা ম্যাচের পয়েন্ট পাবে।
যদি ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামেন এবং পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা অনুপস্থিত থাকেন, তবে ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে দু’পয়েন্ট প্রদান করবেন।
তবে এখানেই শেষ নয়। আইসিসির ধারা ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, কোনও দল ম্যাচে অংশ না নিয়ে ডিফল্ট করে, তাদের ২০ ওভারে ০ রান করেছে বলে ধরা হয়।
এর ফলে পাকিস্তানের নেট রান রেট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সুপার এইটে ওঠার সম্ভাবনাকে প্রায় শেষ করে দিতে পারে।
