আজকাল ওয়েবডেস্ক: টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। কিন্তু সরাসরি আইসিসিকে কিছু জানায়নি। নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু তারপরই রক্তচক্ষু রাঙায় আইসিসি। কড়া শাস্তির কথা জানানো হয়েছে। তাতে কিছুটা হলেও বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। এবার এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমর্থন পেতে বিভিন্ন ক্রিকেট বোর্ডের দ্বারস্থ হয় পাকিস্তান। কিন্তু কোনও সাপোর্ট মেলেনি। পাশে দাঁড়ায়নি অন্য কোনও ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ম্যাচ বয়কটের কথা আইসিসিকে জানায়নি। যার ফলে আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, পিসিবির পাশে দাঁড়াতে চায়নি অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ড। পাকিস্তানের কোনও লোকাস স্ট্যান্ডি নেই। কোনও আইনি অবস্থানও নেই। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী বাকি ক্রিকেট বোর্ডগুলো। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সম্প্রতি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সেখানে বয়কটের প্রসঙ্গ ওঠেনি। পাকিস্তানের মেয়েদের দলের ভারতীয় এ দলের বিরুদ্ধে খেলার কথা। এইক্ষেত্রে কোনও আপত্তি জানায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। সেখানে শুধুমাত্র বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট কেন? আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তান সব ম্যাচ কলম্বোয় খেলবে। শ্রীলঙ্কা নিরপেক্ষ ভেন্যু। তাই কোনও সমস্যা হওয়ার কথা না পাকিস্তানের। বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের এই অবস্থান মানতে পারছে না বাকি বোর্ডগুলো।
পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের পর একটি বিবৃতি দেয় আইসিসি। মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাকিস্তান সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরিণতি কী হতে পারে সেটা জানানো হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে সহমত নন মানি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রাক্তন প্রধান জানান, পিসিবি শুধুমাত্র সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে চলছে। দাবি করেন, ভারতও একই কাজ করেছিল। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানে দল পাঠায়নি বিসিসিআই। সেই সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের ছিল। তখন ভারতকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি। এহসান মানি বলেন, 'সরকারের পরামর্শ মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। এর ভিত্তিতেই ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে দল পাঠায়নি ভারত সরকার। দ্বৈত আচরণ থাকা উচিত নয়।' এই বিষয়ে অনেক দূর জলঘোলা হবে। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ যে হবে না, সেটা এখনই হলফ করে বলা যাবে না।
