আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিশ্বকাপ খেললেও, ভারত ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। জানানো হয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে না পাকিস্তান। কিন্তু শেষপর্যন্ত নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে। বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হবে। তারপর কি কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে পিসিবি? এমন ধারণা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের। কপিল দেবের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য জানান, আইসিসির হুঙ্কারে ভয় পেয়ে গিয়েছে পাকিস্তান। খালি পাত্রের সঙ্গে পাকিস্তানের তুলনা করেন প্রাক্তন তারকা।
শ্রীকান্ত বলেন, 'খালি পাত্র বেশি আওয়াজ করে। পাকিস্তান ভয় পেয়ে গিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও ওরা হেরে গিয়েছে। তাই ওরা ওয়াকওভার দেওয়ার কথা ভাবছে। ওরা খেলুক, বা না খেলুক, ভারতের জন্য ম্যাচটা ওয়াকওভারই হবে। ওরা এল বা এল না, তাতে কিছু যায় আসে না। এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে সব ম্যাচ খেলেছিল।' শ্রীকান্তের দাবি, আরও একবার হারের ভয়ে ভারতের মুখোমুখি হতে চাইছে না পাকিস্তান। বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পরের ৪৮ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবে আইসিসি। মধ্যস্থতার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজাকে। ইতিমধ্যেই কলম্বো পৌঁছে গিয়েছে পাকিস্তান দল। এসএসসি স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ার্ম আপ ম্যাচ খেলার কথা।
পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তের পর থেকেই বর্ডারের দুই প্রান্ত থেকেই ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মতামত দিচ্ছে। পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না সুনীল গাভাসকর। গত কয়েক বছরে একাধিক ক্রিকেটীয় বিষয়ে ইউ টার্ন মারতে দেখা গিয়েছে পাকিস্তানকে। কিংবদন্তি মনে করছেন, সিদ্ধান্ত বদল করবে পাকিস্তান। গাভাসকর বলেন, 'আমার মনে হয় পরের চার-পাঁচদিনে প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মতামত জানার পর পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত বদলে যাবে। এতে নতুন কি আছে? আমরা জানি পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা অবসর নেওয়ার চার-পাঁচদিন পর আবার অবসর ভেঙে ফিরে আসে। বলে, তাঁদের ফ্যানরা আরও বেশিদিন ক্রিকেট খেলার অনুরোধ করেছে। এবারও সেটা হতে পার।' সানির সঙ্গে একমত রবিচন্দ্রন অশ্বিনও। মনে করেছেন, শেষমেষ সুর নরম করে ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে পাকিস্তান। বল এখন পাকিস্তান সরকারের কোর্টে। আইসিসির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে ডিগবাজি খেতে পারে পাকিস্তান।
