আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ফুটবল-সাধক। একসময়ে গোলকিপার ছিলেন। কিন্তু ফুটবল মাঠের বিভিন্ন পজিশনের ফুটবলার তৈরি করেছেন তিনি। বাংলার ফুটবলের সেই 'দ্রোণাচার্য' মুরারী সুর আর নেই। বৃহস্পতিবার রাত তিনটের সময়ে
অনন্তলোকে পাড়ি দিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলার ফুটবল-মহল। এক শূন্যতা তৈরি হল। নস্ট্যালজিক হয়ে পড়াটাই স্বাভাবিক। যদিও তিনি 'দ্রোণাচার্য' সম্মান পাননি। তবে তাঁকে 'বাংলার দ্রোণাচার্য' বলাই যায়।
অনেকের স্মৃতিতেই ভেসে ওঠে ফেলে আসা বিকেলের ছবি।
শ্যামনগর স্টেশনে বিকেলের দিকে ট্রেন থামলে হাওয়ায় ভেসে আসত বাঁশির শব্দ। প্ল্যাটফর্ম পেরিয়ে যুগের প্রতীক ক্লাবের মাঠের দিকে হাঁটলে অনেকেরই মনে হওয়াটা স্বাভাবিক, এই তো একটু আগেই হয়তো চেয়ারে বসে ছিলেন রোগা, ঝুঁকে-পড়া এক বৃদ্ধ মানুষ—হাতে বাঁশি, চোখে অদ্ভুত এক দীপ্তি। যেন অপেক্ষা করছেন আরও একজন বাবলুর জন্য, আরও একজন নবির জন্য। মুরারী সুর যে ঘাসে ঘাসে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসংখ্য মণিমানিক্য।
মুরারি শুর সেই বিরল মানুষদের একজন। তিনি আলো চাননি, সংবাদপত্রের প্রথম পাতা চাননি, সম্মানের মঞ্চও চাননি। তিনি মনের আনন্দে ফুটবলার তৈরি করে গিয়েছেন।
আজ যখন কলকাতার বড় ক্লাবগুলোতে বাঙালি ফুটবলার খুঁজতে দূরবীন লাগে, তখন আরও বেশি করে মনে পড়ে মুরারী সুরের কথা।
শ্যামনগরের গলি, পাণ্ডুয়ার মাঠ, ইছাপুরের ধুলো, সব জায়গা থেকেই তিনি তুলে এনেছিলেন প্রতিভা। প্রিয় মাস্টারমশাইকে চোখের জলে স্মরণ করেন রহিম নবি।
খেলোয়াড় জীবনে তিনি ছিলেন গোলকিপার। টালিগঞ্জ অগ্রগামীতে খেলতেন। পরে তিনি ভবিষ্যতের ফুটবলার তৈরির কাজে ব্রতী হন।
মুরারী সুর চলে গেলেন। কিন্তু এই বাংলার ফুটবল মাঠের ঘাসে, কাদা মাখা জার্সির ভাঁজে, মানুষের প্রণামের মাঝেই রয়ে গেলেন দ্রোণাচার্য।















