সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: এক সপ্তাহও হয়নি কলকাতায় এসেছেন। সবে তিনদিন হয়েছে দলবল নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আর ডার্বির প্রস্তুতি? শুক্রবার ধরলে, চারদিন। ডার্বির জন্য কি যথেষ্ট? সুভাষ ভৌমিক, সুব্রত ভট্টাচার্যরা ভাবতে পারতেন মাত্র চারদিন প্রাক মরশুম প্রস্তুতির ভিত্তিতে বড় ম্যাচ খেলার কথা? আরও একটু অতীতে ফিরে গেলে, যদি সৈয়দ মঈনুদ্দিনের কথা ধরা হয়। অন্তত তিন সপ্তাহ প্রাক মরশুম প্রস্তুতি না করে কোনও ছোটখাট ম্যাচ খেলতেও রাজি হতেন না। একটা গোটা টুর্নামেন্ট দূর অস্ত। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার মোড়কে বদলে গিয়েছে অনেক কিছুই। ফুটবল এখন বিপণন। তাই গত কয়েক বছর ধরে ডুরান্ড কাপের একই গ্রুপে রাখা হয় ইস্ট-মোহনকে। যাতে মরশুম শুরুতেই হয় ডার্বি। উপায় না থাকায়, পছন্দ না হলেও এই সিদ্ধান্ত গিলতে বাধ্য হন বিদেশি কোচরা। মোহনবাগানের নতুন কোচ পানাগিওটিস দিলমপেরিসের অবস্থাও তাই। 

তিন দিনে তিনটে প্র্যাকটিস সেশন। শুক্রবার চতুর্থ। এমন পরিস্থিতিতে ডার্বি খেলা যে কঠিন, মেনে নিলেন সবুজ মেরুনের নতুন কোচ। তবে জানেন মোহনবাগানের হটসিটে বসার চাপ কতটা। তাই মাথা পেতে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছেন। আত্মবিশ্বাসের সুর গ্রিক কোচের গলায়। প্যানোস বলেন, 'কলকাতায় পা রেখেই ফ্যানদের থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বি দিয়ে শুরু করা খুবই উত্তেজক। মোহনবাগানের সমর্থকদের কথা জানি। মাত্রাতিক্ত প্রত্যাশার বিষয়েও অবগত। তবে এটা আমার কাছে চাপ নয়, বরং মোটিভেশন। এত কম সময়ে ডার্বি খেলা চ্যালেঞ্জিং। আমাদের অনেক কিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমরা দ্রুত সেটা করার চেষ্টা করব। কলকাতায় আসার পর থেকে এই ম্যাচের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আমি আত্মবিশ্বাসী। আমি ইতিবাচক। আমরা যে কাউকে হারাতে পারি।' 

বিপক্ষে আইএসএলের অন্যতম সেরা কোচ। যার ডার্বি রেকর্ড অটুট। এখনও পর্যন্ত বড় ম্যাচে অপরাজিত আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। ভারতীয় ফুটবলকে হাতের তালুর মতো চেনেন। তারওপর ডার্বি স্পেশালিস্ট। সেখানে ডার্বিতে হাতেখড়ি হতে চলেছে প্যানোসের। খাতায় কলমে কি কিছুটা এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল? হাবাসকে নিয়ে তেমন কোনও মন্তব্য করতে চাননি বাগানের নতুন কোচ। দাবি, খেলাটা এগারো বনাম এগারোর। নিজের দলের ওপর আস্থা রাখছেন। জানান, তাঁর দলে সেরা ভারতীয় ফুটবলার রয়েছে। 

প্যানোস বলেন, 'হাবাস সফল কোচ। কিন্তু ফুটবল এগারো বনাম এগারোর খেলা। আমি প্লেয়ারদের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছি। আধুনিক ফুটবল দর্শনেই চলব। আমি আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করি। বল ধরে রেখে পজেশনাল ফুটবল খেলব। আমার জন্য প্রতিটা ম্যাচই ডার্বি। কোনও ম্যাচের আগের রাতে আমার ঘুম হয় না। তবে এবার আমার দলে ভারতের সেরা ফুটবলাররা রয়েছে। প্রায় সবার ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এরকম দল থাকলে সব কোচই আত্মবিশ্বাসী থাকবে। আশা করছি দল ভাল ফুটবল খেলবে।' এর আগে কখনও ৫০-৬০ হাজার সমর্থকদের সামনে কোচিং করার অভিজ্ঞতা নেই প্যানোসের। তবে এটাকে চাপ বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না। বরং, এটাই বাড়তি মোটিভেশন গ্রিক কোচের। ভারতের অন্যতম সফল কোচের বিরুদ্ধেই ডার্বির খাতা খুলতে মরিয়া সবুজ মেরুনের নতুন হেডকোচ।