মোহনবাগান - ১ (কামিন্স)
ইস্টবেঙ্গল - ১ (এডমুন্ড)
সম্পূর্ণা চক্রবর্তী: রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। পেন্ডুলামের মতো প্রতি মুহূর্তে ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়। রাজ্যের পালাবদলে ডার্বিতেও পালাবদল হতে চলেছিল। ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছিল। গ্যালারিতে সেলিব্রেশন শুরু করে দেয় লাল সমর্থকরা। কিন্তু নির্ধারিত নব্বই মিনিটের শেষে ফের বদলে যায় ম্যাচের রং। যার ফলে আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন পেতে অপেক্ষা করতে হবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। রুদ্ধশ্বাস ডার্বি ১-১ গোলে শেষ হল। ১২ রাউন্ডের শেষে ইস্ট-মোহনের পয়েন্ট ২৩। গোল পার্থক্যে এগিয়ে লাল হলুদ। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য পাঁচ। তবে এদিনের ড্রয়ে খেতাবের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল অস্কার ব্রুজোর দল। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জিতলেই চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে খেতাব জিততে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ের পাশাপাশি মোহনবাগানকে আধ ডজন গোল করতে হবে।
ম্যাচের ৮৫ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। মিগুয়েলের পাস থেকে বিশাল কাইথকে কাটিয়ে ডান পায়ের শটে গোলে ঠেলেন পরিবর্ত ফুটবলার। পাঁচ মিনিটও গোল ধরে রাখতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৮৯ মিনিটে সমতা ফেরায় বাগান। দিমিত্রির কর্নার থেকে হেডে গোল করেন জেসন কামিন্স। তারপর লাল হলুদের রক্ষণকে চেপে ধরে কামিন্স, ম্যাকলারেনরা। শেষ পাঁচ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে কম্পন ধরিয়ে দেয়। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে জেতার সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু ম্যাকলারেনের শট বাঁচান প্রভসুখন গিল। ম্যাচ বাঁচানো সেভ। ম্যাচের অন্তিমলগ্ন ঘটনাবহুল। জোড়া হলুদ (লালকার্ড) দেখেন এডমুন্ড। প্রথমার্ধে জ্বলে উঠতে না পারলেও, দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরেন মিগুয়েল। গোলের বলও বাড়ান। এছাড়াও কয়েকটি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে ম্যাচের সেরা ব্রাজিলীয়। তবে এবারও আইএসএল ডার্বি জেতা হল না ইস্টবেঙ্গলের। অপরাজেয় রেকর্ড অক্ষুণ্ণ মোহনবাগানের।
ডার্বির মতো ডার্বি। ঘটনাবহুল ম্যাচ। আইএসএলের খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচ যেমন হয় ঠিক তেমনই। স্টেডিয়াম ঠাসা। কানায় কানায় ভরা। অনেকদিন পরে এমন একটি ডার্বির সাক্ষী থাকল কলকাতা। সাধারণত আইএসএল ডার্বিতে অগ্রাধিকার থাকে মোহনবাগানের। লিগের ইতিহাসে একবারও জেতেনি ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু রবিবাসরীয় সন্ধেয় ম্যাচ সেয়ানে সেয়ানে। যেকোনও দলই জিততে পারত। প্রথমার্ধেই দুই দলের সুযোগের পর সুযোগ। শেষ পাঁচ ডার্বিতে এমন দেখা যায়নি। ম্যাচের গতিবিধি অনুযায়ী ৪৫ মিনিটের শেষে স্কোরলাইন ২-২ হলেও অবাক হওয়ার ছিল না। বা এগিয়ে যেতে পারত কোনও দল। কিন্তু সুযোগ নষ্টের বহর ইস্ট-মোহনের।
সামনে একা জেমি ম্যাকলারেনকে রেখে দল সাজান সার্জিও লোবেরা। তিন বিদেশিকে খেলান। অন্যদিকে ফরোয়ার্ডে অ্যান্টন সোবার্গকে রাখেন অস্কার ব্রুজো। প্রথম থেকেই দুই দল অলআউট ঝাঁপায়। কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে ব্যর্থতা। এদিন প্রথমার্ধের একটি বড় অংশে কার্যকরী ছিলেন না মিগুয়েল। গুণেগুণে কয়েকবার বল পায়ে দেখা যায় তাঁকে। যার ফলে ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি হচ্ছিল না। রবি রাতে ফিকে দেখায় বিপিন সিং এবং পিভি বিষ্ণুকেও। অন্যান্য ম্যাচে দুই উইং দিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে লাল হলুদ। বরং, এদিন অনেক বেশি নজর কাড়ে সবুজ মেরুনের উইং। অনবদ্য লিস্টন কোলাসো। প্রথমার্ধে ওয়ার্কলোড নেন মনবীরও।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই বিপক্ষের রক্ষণের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। শুরুতেই জোড়া সুযোগ পান সাহাল আব্দুল সামাদ। লিস্টনের পাস থেকে বলই ধরতে পারেনি। ৮ মিনিটে মনবীরের ক্রস থেকে পোস্টের ওপর দিয়ে ভাসিয়ে দেন সাহাল। তার এক মিনিট আগেই সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। বিষ্ণুর ওয়ান টু ওয়ান শট ক্লিয়ার করেন অভিষেক। দুই দলই একাধিক সুযোগ পেলেও, ওপেন চান্স অনেক বেশি ছিল ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের ১৪ মিনিটে অ্যালবার্তোর পা ছুঁয়ে অ্যান্টনের শট পোস্টে লাগে। ২২ মিনিটে আবার নিশ্চিত সুযোগ। জিকসনের পাস থেকে বল পান বিপিন। সামনে একা বাগান কিপার বিশাল কাইথ। বক্সের মধ্যে অপেক্ষারত অ্যান্টন। কিন্তু বল ছাড়েননি বিপিন। শেষমেশ তালুবন্দি করেন বিশাল। নিশ্চিত সুযোগ মিস। ম্যাচের ৩৭ মিনিটে আবার গোলের সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের। মিগুয়েলের পাস থেকে বল পান অ্যান্টন। একের বিরুদ্ধে এক অবস্থায় দারুণ সেভ বিশালের। সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগানও। প্রথমার্ধে অনিরুদ্ধ থাপার শট বাঁচান গিল। মনবীরের গোল লক্ষ্য করে শট জিকসনের পায়ে লেগে বাইরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধেও মিগুয়েল, জিকসনদের নিশ্চিত গোল বাঁচান বাগান কিপার। আইএসএলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে বৃহস্পতিবার।
















