আজকাল ওয়েবডেস্ক: আহমেদাবাদের আকাশে তখন সন্ধে। নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের আলোয় ঝলমল করছে আইপিএলের ফাইনাল। কিন্তু গুজরাটের হোম গ্রাউন্ড আজ লাল দুর্গে পরিণত হলেও গ্যালারির প্রতিটা যেন চোখ একজন মানুষকেই খুঁজছিল। তিনি বিরাট কোহলি।

কোহলি তো শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে কোনওদিনই ক্রিজে আসেন না। তিনি ব্যাট হাতে নামেন অসংখ্য স্বপ্ন আর কোটি কোটি সমর্থকের আবেগকে সঙ্গে নিয়ে। আইপিএলের প্রথম সংস্করণ থেকে উনিশতম অধ্যায়, সময়ের স্রোতে বদলেছে ক্রিকেট, বদলেছে টি-টোয়েন্টির সংজ্ঞা, বদলেছে ব্যাটিংয়ের গতি ও কৌশল।

কিন্তু একটি জিনিস অপরিবর্তিত থেকে গিয়েছে। আর সেটা বিরাট কোহলি। সেই একই রানের খিদে, একই ক্ষিপ্রতা, একই আবেগ। কেরিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেও তিনি যেন আগের মতোই দলের ভরসা, আগের মতোই ‘চেজমাস্টার’।

মেগা ফাইনালে পাওয়ার প্লে থেকেই কথা বলতে শুরু করল তাঁর ব্যাট। প্রতিটা কভার ড্রাইভ যেন ক্যানভাসে আঁকা শিল্পীর নিখুঁত তুলির টান, প্রতিটি পুল শট যেন বাজের গর্জন।

ফাইনালের চাপ তো বিরাটের কাছে বহুদিনের পরিচিত এক সঙ্গী। যতই ম্যাচ এগিয়েছে, ততই তাঁর ব্যাটে ফুটে উঠেছে অভিজ্ঞতার দীপ্তি। মাঠের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে তিনি যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছিলেন।

যখন স্কোরবোর্ডে তাঁর রান বাড়ছিল, তখন বেঙ্গালুরুর সমর্থকদের হৃদস্পন্দনও যেন সেই সংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছিল। প্রতিটি বাউন্ডারি ছিল আনন্দের বিস্ফোরণ, প্রতিটি সিঙ্গল ছিল শিরোপার দিকে আর এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

ম্যাচের পর কোহলি ফিঞ্চকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে গেলেন, 'আমি ছেলেদের বলেছিলাম খোলা মনে খেলতে। বলেছিলাম, এবার আগের বছরের মতো অতটা চাপ নেই। আমরা জানতাম, যদি আমাদের পরিকল্পনা কাজে লাগিয়ে খেলতে পারি, তাহলেই জিততে পারব। আমাদের টিমে অভিজ্ঞতা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি, সেটাই কাজে লেগেছে। মুম্বইয়ের সঙ্গে জেতার পর থেকেই আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ছিল দলের।'

অপরাজিত ৭৫ রান করে ম্যাচের সেরাও হলেন বিরাট। রবি শাস্ত্রীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলে গেলেন, 'এই দিনটার স্বপ্ন বহুবার দেখেছি। আইপিএল ফাইনাল, আর আমি ম্যাচের উইনিং রান আমার ব্যাট থেকে এল।'

চেজ মাস্টার জানান, 'আমরা ধাপে ধাপে এগিয়েছি। প্রথম ধাপ ছিল টেবিল টপে শেষ করা। তারপর ঠিক করেছি প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, আমরা হারাতে পারব। আমরা শুধু আরসিবিকে নিয়ে ভেবেছি, অন্য কাউকে নিয়ে নয়।' 

কোহলির বক্তব্য, তিনি যদি আউটও হয়ে যেতেন তাহলেও বিশ্বাস ছিল পরে যাঁরা ছিলেন ম্যাচ ঠিকই বেরিয়ে যেত। একবার জিতে তো কোহলির মতো ক্রিকেটারদের খিদে কখনওই মেটে না।

 হয়তো গত বছর জেতার পরেই এবারের পরিকল্পনা লেখা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিরাট রয়েছেন বিরাটেই। পুরস্কার নিয়ে শেষে বলে গেলেন, 'এখনও উন্নতি করতে হবে।'