আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে থাকলেও ভারতীয় দলে নির্বাচিত করার আগে আরও একটু সুযোগ দেওয়া উচিত বৈভব সূর্যবংশীকে। এমনটাই জানালেন প্রাক্তন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলরাউন্ডার কার্লোস ব্রেথওয়েট।

শনিবার সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ৩৬ বলে শতরান করে ফের লাইমলাইটে এসেছেন তিনি। এই বিস্ফোরক ইনিংসের পর থেকেই জাতীয় দলে তাঁকে সুযোগ দেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

তবে ব্রেথওয়েটের মতে, বৈভবের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসুস্থে এগোনো উচিত ভারতের। তিনি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন ব্রায়ান লারার কেরিয়ারের শুরুর দিকের সময়ের কথা।

ব্রেথওয়েট জানান, লারা যে এক অসাধারণ প্রতিভা, তা সবাই জানত। তবু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামানোর আগে তাঁকে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ শো-তে ব্রেথওয়েট বলেন, ‘বৈভবের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ কীভাবে ব্রায়ান লারাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামানোর আগে সময় দিয়েছিল। লারা যে সেই প্রজন্মের সেরা প্রতিভাদের একজন, সেটা সবাই জানত।’

তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ কী করেছিল জানেন? ওকে ভিভ রিচার্ডসদের সঙ্গে রাখত, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলানো হয়নি। তখন অনেক ট্যুর ম্যাচ হত। সেখানে সিনিয়রদের সঙ্গে থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিল লারা। তারপর অভিষেকের পর আমরা দেখেছি ওর কেরিয়ার কতটা সফল হয়েছিল।’

ব্রেথওয়েটের মতে, বৈভবকেও আপাতত ভারতীয় দলের কাছাকাছি রেখে শেখার সুযোগ দেওয়া উচিত। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবদের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারবে সে।

পাশাপাশি নিজের বয়সের কাছাকাছি তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গেও মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তাঁর কথায়, ‘দুটো দিকই সামলানো সম্ভব। ওকে ভারতীয় দলের সঙ্গে রাখুন।

বিরাটের কাছ থেকে শিখুক, রোহিতের কাছ থেকে শিখুক, সূর্যকুমারের কাছ থেকে শিখুক। আরও তরুণ ক্রিকেটার রয়েছে, ওদের থেকে শিখতে পারবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামিয়ে দেওয়ার আগে ওকে আরও একটু সময় দেওয়া উচিত।’

রাজস্থান রয়্যালসের তারকা বৈভব সূর্যবংশীকে ঘিরে বড়সড় চোটের আশঙ্কা দেখা দেয় শনিবার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি হাঁকান বৈভব। তার পর সেই তারকাই অস্বস্তির মুখে পড়েন।

ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ফিল্ডিং করার সময় আচমকাই ডান ঊরুতে ব্যথা অনুভব করেন বৈভব। ব্যথায়-যন্ত্রণায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে দলের সাপোর্ট স্টাফ মাঠে ঢুকে তাঁর শুশ্রুষা করেন।

সাপোর্ট স্টাফের কাঁধে ভর দিয়ে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয় বৈভবকে। মাঠ ছাড়ার সময় বৈভবকে বেশ যন্ত্রণাকাতর দেখাচ্ছিল। খোঁড়াচ্ছিলেন তিনি। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, হয়তো হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়েছে।  

তবে তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ ব্যাটিং করার ফলে তিনি মারাত্মক ক্র্যাম্পে ভুগতে পারেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এদিন জয়পুরের গরমে বৈভব প্রায় ১৪ ওভার ব্যাটিং করেন। মোট ৩৭ বল মোকাবিলা করে তিনি তাঁর  দ্বিতীয় আইপিএল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।

২০২৫ সালে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। চলতি আইপিএলে ৩৬ বলে শতরান করলেন। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলারদের বিরুদ্ধে মারমুখী সেঞ্চুরি করলেন।

ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি করেন তিনি। তার পরে হেলমেট খুলে, শূন্যে হৃদয় দেখানোর পরে স্যালুট করলেন। অভিনব উদযাপন বৈভবের। ধারাভাষ্যকাররা বলছিলেন, অন্য কেউ হলে লাফিয়ে উঠতেন। বৈভব শান্ত।

সেঞ্চুরির আগের বলটা বাউন্ডারিতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে আশা করছিলেন ছক্কা হবে। ছক্কা না  হওয়ায় নিজেই হতাশ হয়ে পড়েন। সেঞ্চুরি করার পরে অবশ্য বেশিদূর এগোতে পারেননি বৈভব।

পরের বলেই এলবি হন সূর্যবংশী। তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসে সাজানো ছিল ৫টি চার ও ১২টি ছক্কা। তার মধ্যে প্যাট  কামিন্সের মতো বোলারকে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন।

এর আগে যশপ্রীত বুমরাকে প্রথম বলে ওভার বাউন্ডারি মেরেছিলেন। এবার কামিন্সকে। তাছাড়া প্রফুল্ল হিঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে সূর্যবংশীকে ফিরিয়েছিলেন। এদিন হিঙ্গের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলেন সূর্যবংশী।

তাঁর জন্যই যশস্বী জয়সওয়ালের উইকেট শুরুতে হারালেও রাজস্থানের রানের গতি কমেনি। সেই সূর্যবংশীই আবার মাঠ ছাড়েন চোট পেয়ে।