আজকাল ওয়েবডেস্ক: আইপিএলের ম্যাচ চলাকালীন যে কোনও ধরনের দুর্নীতি রুখতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিল বিসিসিআই। ম্যাচের দিন সমস্ত ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের স্মার্ট সানগ্লাস সহ যাবতীয় আধুনিক স্মার্ট আইওয়্যার জমা দেওয়ার নির্দেশ দিল বোর্ডের অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট (ACSU)।

বিসিসিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একাধিক প্রযুক্তি সংস্থা আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির ক্রিকেটার এবং সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে স্মার্ট সানগ্লাস ও স্মার্ট গগলস প্রচার ও বিক্রি করছে।

জানা গিয়েছে, এগুলি দেখতে সাধারণ চশমার মতো হলেও, এই ডিভাইসগুলিতে রয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

বোর্ডের অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিট জানিয়েছে, এই ধরনের স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে ভিডিও রেকর্ডিং, লাইভ স্ট্রিমিং, টেক্সট মেসেজ পাঠানো, এমনকী মোবাইল ডেটা বা ওয়াই-ফাইয়ের সাহায্যে অডিও ও ভিডিও কলও করাও সম্ভব। 

সেই কারণে আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী এগুলিকে যোগাযোগ ও অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং ডিভাইস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ম্যাচের দিন প্লেয়ার অ্যান্ড ম্যাচ অফিসিয়ালস এরিয়ার ভিতরে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার বা সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ড্রেসিংরুম, ডাগআউট এবং প্লেয়ার ভিউয়িং এরিয়ার মতো উচ্চ-নিরাপত্তা জোনেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। 

বোর্ডের অ্যান্টি-করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের আশঙ্কা, এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে রিয়েল-টাইমে তথ্য আদানপ্রদান বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে স্মার্ট আইওয়্যারকে অন্যান্য নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সমতুল্য ধরা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর পর সমস্ত ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের নিজেদের স্মার্ট গ্লাস সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসারের (SLO) কাছে জমা দিতে হবে।

মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য যোগাযোগ-সক্ষম ডিভাইসের সঙ্গেই এগুলিও জমা রাখতে হবে, তারপরেই টিমের নির্দিষ্ট সুরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি মিলবে।

বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। কেউ যদি PMOA-র ভিতরে স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করতে গিয়ে বা সঙ্গে রাখতে গিয়ে ধরা পড়েন, তা হলে তা টুর্নামেন্টের নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হবে।

বোর্ড আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত নিয়ম না মানলে আইপিএল ২০২৬-এর ‘মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডস’ বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত জরিমানা করা হতে পারে।