আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্রিকেট রোম্যান্সের নতুন এক অধ্যায় তিনি। ক্রিকেট যদি ধর্ম হয়, তিনি তাহলে তার সাক্ষাৎ সাধক। তিনি বিরাট কোহলি। ঘাম-রক্তের পথ অতিক্রম করে যিনি শৌর্য-বীর্যের পোশাক পরিহিত এক নাইট। 
তিনি এখনও রাজপাট চালাচ্ছেন। লড়াকু এক মানুষের প্রতিনিধি তিনি। তাঁর চলার পথ মোটেও পাপরি বিছানো নয়। বরং তা কণ্টকাকীর্ণ। জাতীয় দলের 'হেডস্যর' গৌতম গম্ভীরই চান না বিরাট কোহলি খেলুন। কিন্তু সেই বিরাট কোহলিই ভুল প্রমাণ করেন তাঁর নিন্দুকদের। গৌতম গম্ভীরকে বাধ্য করলেন ভাবতে। 

 কোহলি এখনও বিরাট ছায়া বিস্তার করতে পারে দেশের ক্রিকেটে। মহেন্দ্র সিং ধোনির ঘরের মাঠে কোহলি খেললেন আরও একটা বিরাট ইনিংস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পরে ফের শতরান হাঁকালেন। এদিন প্রোটিয়া ব্রিগেডের বিরুদ্ধে বাউন্ডারি মেরে তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছন। ওয়ানডে ফরম্যাটে ৫২ নম্বর শতরান হয়ে গেল কোহলির। একটি ফরম্যাটে সর্বাধিক। শতরানের পরে বিরাট লাফে ফুটে বেরোচ্ছিল আগের ঔদ্ধত্য। 

তাঁর ব্যাট চালনা দেখে মনে হচ্ছিল, প্রতিদিনই তিনি খেলার মধ্যে রয়েছেন। কে বলবে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পরে এই খেলছেন তিনি। কোহলির মতো ক্রিকেটারদের জন্যই হয়তো বলা হয়, ফর্ম ইজ টেম্পোরারি বাট ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট। 

টুথ পিকের মতো ব্যাট নড়াচড়া করছিলেন। দেহের ভারসাম্য দুর্দান্ত। ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। যশস্বী জয়সওয়াল শুরুতেই ফিরে যাওয়ার পরে রোহিত শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে  ১৩৬ রান জুড়লেন। আপার কাটে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরিয়নের শচীন তেণ্ডুলকরকে ফেরালেন। রোহিত শর্মার সঙ্গে সেই পুরো জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিংকে অত্যন্ত সাধারণ পর্যায়ে নামিয়ে আনলেন। 

কেরিয়ারের এই পড়ন্ত বেলাতেও তিনি দেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বোলারদের সামলাতেই ইডেন-গুয়াহাটিতে ভারতীয় ব্যাটারদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলার জোগাড়। আর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই 'বুড়ো ঘোড়া' দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিলেন প্রোটিয়া ব্রিগেডের কাছে। রোহিত শর্মা ৫৭ রান করে থেমে গেলেন। বিরাট কোহলি থামলেন না। তিনি সেঞ্চুরি করলেন, দেশের শ্বাসপ্রশাস জুড়ে আজ কেবলই বিরাট কোহলি। ৮৩ নম্বর সেঞ্চুরি হয়ে গেল তাঁর। এরপরও কি গম্ভীর ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভাববেন না কোহলির নাম? 

কোহলির গাণ্ডীব এখনও ত্রাস সৃষ্টিকারী বোলারদের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। স্টেপ আউট করে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। পরপর উইকেট পরার সময়ে তিনি একদিক ধরে রেখেছিলেন। অনুজ ক্রিকেটারকে পরামর্শ দিয়েছেন। আবার তাঁর রানিং বিটুইন দ্য উইকেট দেখে কে বলবে তিনি এখন ৩৭। 

বিরাট কোহলি এক লড়াইয়েরও নাম। হাল ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নন তিনি। অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম দুটো ওয়ানডেতে খাতা খোলেননি তিনি। তৃতীয় ওয়ানডেতে ৭৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। তার একমাস বাদে খেলতে নেমে সেঞ্চুরি করে গেলেন। রাঁচিতে তৃতীয় শতরান। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ। শেষ পর্যন্ত কোহলি থামলেন ১৩৫ রানে। ১১টি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো ছিল তাঁর ইনিংস।

একসময়ে মনে হয়েছিল ক্রিকেট ঈশ্বর শচীন তেণ্ডুলকরের অবিশ্বাস্য রেকর্ড কেবল ভাঙতে পারবেন তিনিই। তবে সেই কক্ষপথ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গিয়েছেন কোহলি। তবুও ভাবীকাল তাঁর মূল্যায়ণ করতে বসে বলবে, একজন মানুষ অন্তত ঈশ্বরকে ছোঁয়ার স্পর্ধা দেখিয়েছিলেন। তাঁর নাম বিরাট কোহলি। একজন মানুষ বিরুদ্ধ স্রোতের বিপরীতে গিয়েও রান করেছিলেন।