আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফিফার বিতর্কিত ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ প্রস্তাবকে ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে ক্রমশ বাড়ছে বিরোধিতা। এবার ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা উয়েফা এবং কনকাকাফের পাশে দাঁড়াল এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে এএফসি জানিয়েছে, এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সর্বসম্মত সমর্থন নেই এবং ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার জরুরি পর্যালোচনা হওয়া উচিত।
এএফসি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ফিফার বাণিজ্যিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত এই প্রস্তাব এবং তা ঘিরে বিশ্ব ফুটবলে তৈরি হওয়া বিভাজন নিয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এএফসি আরও জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ বয়কটের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা শুরু হওয়াই পরিস্থিতির গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
তাদের মতে, ফুটবলকে এমন অবস্থায় কখনও পৌঁছানো উচিত ছিল না। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (FFE) প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফা একটি পৃথক বাণিজ্যিক সংস্থা গঠন করতে চায়।
যা সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ, টিকিট বিক্রি এবং লাইসেন্সিং-সহ ফিফার বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনা করবে। ফিফার দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যা লাভ আসবে তাতে বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল উন্নয়নে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা সম্ভব।
তবে ফুটবলের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ফিফার হাতেই থাকবে। তবে এএফসির মতে, উয়েফা ও কনকাকাফের বিরোধিতার পর এই প্রস্তাবের পক্ষে বিশ্ব ফুটবলে প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া বাস্তবসম্মত নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চ, যার মূল চালিকাশক্তি সদস্য দেশগুলির অংশগ্রহণ। তাই এমন কোনও প্রস্তাব, যা এই ঐক্য ও সার্বজনীন চরিত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, তা নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।
এএফসি আরও মনে করে, এই বিতর্ক শুধুমাত্র FFE প্রস্তাবকে ঘিরে নয়, বরং ফিফার প্রশাসনিক কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং সদস্য সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনার অভাবকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
ফিফা সম্প্রতি প্রস্তাবটি নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা দিলেও তাতে বিশেষ সমাধান হয়নি। তাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বচ্ছতা, সদস্য সংস্থাগুলির সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা এবং কার্যকর নজরদারির ভিত্তিতে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে এএফসি।
উল্লেখ্য, এর একদিন আগেই উয়েফা এবং তাদের ৫৫টি সদস্য সংস্থা ঘোষণা করেছিল, FFE প্রস্তাব প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা ফিফার কোনও প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।
একই সঙ্গে কনকাকাফও এই প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিবৃতির শেষে এএফসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘ফিফা বিশ্বকাপ এবং ফুটবল বিশ্বের সমস্ত সদস্য সংস্থার সম্পদ। তাই এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে সদস্য দেশের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই।’
















