আজকাল ওয়েবডেস্ক: জীবনের সব থেকে কঠিন লড়াইটা তিনি একলাই লড়ছিলেন। বাইশ গজে অতীতে বহু স্মরণীয় ইনিংস তিনি খেলেছিলেন। উইকেটে জমে যাওয়ার পরে অবলীলায় তিনি শট খেলতেন। বোলারকে মাঠের যত্রতত্র ফেলতেন। সেই ড্যামিয়েন মার্টিন কোমা থেকে জেগে উঠেছেন। একেই বোধহয় বলে মিরাকল। গত ৪৮ ঘণ্টায় ড্যামিয়েন মার্টিনের অবস্থার অলৌকিক পরিবর্তন এসেছে। কোমা থেকে জেগে উঠে তিনি এখন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। 

 দু'বারের বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ড্যামিয়েন মার্টিন। ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে সৌরভ গাঙ্গুলির স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন। রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপে করেছিলেন ২৩৪ রান। তার মধ্যে তিনি নিজে করেছিলেন ৮৮ রান। নতুন বছরের আগেও খবর ছিল ড্যামিয়েন মার্টিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা কষছেন। নতুন বছরের গোড়ায় ক্রিকেটভক্তদের জন্য মন ভাল করা খবর। মার্টিনের সম্বিৎ ফিরে এসেছে। 

 প্রাক্তন অজি তারকার প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বলেন, ''গত দু' দিনে যা ঘটেছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য। ড্যামিয়েন মার্টিন এখন কথা বলছে। চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছে। কোমা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার গতি এতটাই ভাল যে ওর পরিবারের লোকরা একে অলৌকিক বলে মনে করছেন।'' 
 
 মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন। কুইন্সল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। 

২৬ ডিসেম্বর বা বক্সিং ডে-তে অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ড্যামিয়েন মার্টিন। কিন্তু গতবছরের বক্সিং ডে-টা তাঁর কাছে ছিল অন্যরকমের। বিশ্রাম নেওয়ার জন্য শুয়েছিলেন। তার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু যুদ্ধের সৈনিক। 

সেই প্রাক্তন ক্রিকেটারকে এখন আইসিইউ থেকে বের করে অন্য বিভাগে স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। গিলি বলছেন, ''ড্যামিয়েন মার্টিন মানসিকভাবে ভাল আছে। এখনও কিছু চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ বাকি। সব দিক বিচার করলে পরিস্থিতি কিন্তু ইতিবাচক।'' অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৬৭টি টেস্টে ১৩টি সেঞ্চুরি ও ২৩টি পঞ্চাশ-সহ  ৪,৪০৬ রান করেন মার্টিন। 

২০৮টি ওয়ানডেতে ৫টি সেঞ্চুরির মালিক তিনি। তাঁর ঝুলিতে ৫৩৪৬ রান। স্টিভ ওয়া ও রিকি পন্টিংয়ের দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন মার্টিন। 

১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যও ছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন। 

১৯৯২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। ১৯৯৪ সালে সিডনি টেস্টে খেলার পর ছয় বছর তিনি টেস্ট দলের বাইরে ছিলেন। ২০০০ সালে টেস্ট দলে প্রত্যাবর্তন ঘটে তাঁর। 

সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়া ছিল বিভীষিকাময় এক দল। সেই দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন ড্যামিয়েন মার্টিন।