আজকাল ওয়েবডেস্ক: খেলাধুলোর জগতে ৩৫ পেরোলেই ‘বুড়ো’ তকমা দিয়ে দেওয়া হয়। অবসরের প্রহর গোনা শুরু হয়। কিন্তু ৪০ বছরে বিশ্বকাপে অভিষেক! সচরাচর এমন উদাহরণ দেখা যায় না।

শুধু অভিষেকেই নয়, তাঁর বীরত্বে আটকে গেল স্প্যানিশ আর্মাডা। তেকাঠির নিচে দাঁড়িয়ে তাঁর একের পর এক দুর্দান্ত সেভেই নাজেহাল হয়ে গেল স্পেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বর্ষীয়ান গোলকিপার হিসেবে ক্লিনশিট রাখার রেকর্ড করলেন তিনি।

ম্যাচটা স্পেন বনাম কেপ ভার্দের বদলে, স্পেন বনাম ভোজিনহা বললেও ভুল হবে না। নিজেদের বিশ্বকাপ অভিষেকেই কেপ ভার্দে যে খেলাটা খেলল আগামী ম্যাচগুলোতে এটাই তাদের বুস্ট দেবে। কিন্তু এখানেও রয়েছে চমক।

পরিসংখ্যান বলছে, কেপ ভার্দের মোট যা জনসংখ্যা তা পশ্চিমবঙ্গের কোনও একটা শহর বা জেলার জনসংখ্যার সমান। এমনকী, যে ফুটবলাররা বিশ্বকাপে খেলছেন ট্রান্সফার মার্কেটে তাঁদের ভ্যালুও অত্যন্ত কম। এই বাজেটের ফুটবলার নিয়ে স্পেনের মতো দলকে রুখে দেওয়া তো নেহাত চাট্টিখানি কথা নয়।

ট্রান্সফার মার্কেটের তথ্য অনুযায়ী, কেপ ভার্দের কিপার ভোজিনহার মার্কেট ভ্যালু বর্তমানে ৪০ লক্ষ। অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় দলের গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধুর মার্কেট ভ্যালু ১.৪ কোটি টাকা।

ক্লাব স্তরে তিনি খেলেন বেঙ্গালুরু এফসিতে। বিশ্বকাপে তিনি রয়েছেন ধারাভাষ্যের দায়িত্বে। অন্যদিকে, মোহনবাগানের কিপার বিশাল কাইথের মার্কেট ভ্যালু আরও বেশি। তাঁর বর্তমান মার্কেট ভ্যালু ১.৮ কোটি টাকা।

এমনিতেই, বিশ্বকাপ এলে যতই দেশজুড়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মাতামাতি হোক না কেন, ১৪০ কোটির দেশের এত বড় একটা ইভেন্টে অংশ না নেওয়া নিয়ে খারাপ লাগা তো থেকেই যায়।

এত বাজেট, যেখানে দেশীয় ফুটবলাররাই ডোমেস্টিক লিগে কোটি কোটি টাকা পান সেখানে দেশের ফুটবলের এই অবস্থা? ভোজিনহার ম্যাচ উইনিং পারফরম্যান্সের পর এই তুলনাটা আরও বেশি করে সমর্থকদের মাথায় ঘুরছে।

প্রশ্ন উঠছে, কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিদেশি এনে, কোটি কোটি টাকা দিয়ে ভারতীয় ফুটবলারদের পকেট ভরিয়ে আদৌ কি দেশের ফুটবলের কোনও উন্নতি হয়েছে?

ইউনাইটেড স্পোর্টসের শীর্ষকর্তা নবাব ভট্টাচার্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই প্রশ্নই রেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘আইএসএল একটা ওভার হাইপড, ওভার প্রাইসড লিগ ছিল, সত্যি বলতে ভারতের ফুটবলের কোনো লাভ হয়নি। ফুটবলের সিংহভাগ বাজেট গ্রাসরুট পর্যায়ে খরচ করা উচিত, উপরে নয়, গাছের গোড়ায় সার/জল দিতে হয়।’

৪০ লাখের গোলকিপার যখন সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়োচ্ছেন তখন ভারতের ১.৮ কোটি টাকার গোলকিপার টিভিতে খেলা দেখছেন আর ১.৪ কোটি টাকার গোলকিপার মাইক হাতে ধারাভাষ্য দিচ্ছেন, হায় রে আইএসএল!