আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের ওপর আরোপিত কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ শিথিল করার কোনও পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে জানিয়েছে অন্যতম আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে অভিযোগ জানানোর কথা বিবেচনা করলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ উপলক্ষে গঠিত হোয়াইট হাউস টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ইরান দলের যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বর্তমানে যে ভ্রমণ পরিকল্পনা কার্যকর রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইরান দল কেবল ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থিত বেস ক্যাম্পে ফিরে যেতে হবে। এই বিধিনিষেধ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালিনোই। তাঁর দাবি, চলতি বিশ্বকাপে ইরানই ‘সবচেয়ে নিপীড়িত দল’।

গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ শেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি প্রতিনিধিদলকে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হয়। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচ শেষ হলেও খেলোয়াড়দের হোটেলে এক রাত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন ভিসা ও ভ্রমণ ব্যবস্থাপনার সমালোচনা শুরু হয়। ঘালিনোই বলেন, ম্যাচের পরে শারীরিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য দল অন্তত এক রাত ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকার আশা করেছিল।

এর মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে ইরানের উইঙ্গার মেহেদি তোরাবির ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা। প্রথম ম্যাচের পর তাঁর এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দলীয় কর্মকর্তারা পরে নতুন মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। ফলে আসন্ন ম্যাচগুলোয় তাঁর অংশগ্রহণে আর কোনও বাধা থাকছে না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও এক বিবৃতিতে জানায়, সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছে।

রবিবার বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ইরানের দ্বিতীয় ম্যাচেও একই ভ্রমণ প্রোটোকল কার্যকর থাকবে। ম্যাচের প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছে দলটি।

তবে তৃতীয় ম্যাচকে ঘিরে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন জুলিয়ানি। আগামী ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের নিরাপত্তা ও ভ্রমণ ব্যবস্থা পরবর্তী সময়ে পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

জুলিয়ানি বলেন, ''পরিস্থিতি সবসময়ে পরিবর্তনশীল। আপাতত আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষে ইরান দল ২৭ মিনিটের ফ্লাইটে টিজুয়ানায় ফিরে যাবে। দ্বিতীয় ম্যাচের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে সিয়াটলের ম্যাচ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।''

মার্কিন কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ইরানের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে টিজুয়ানায় স্থানান্তরের ফলে দলের ভ্রমণ সময় কমেছে। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম ম্যাচের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও তারা সন্তুষ্ট।

এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা না পাওয়ার বিষয়ে জুলিয়ানি বলেন, ''সব খেলোয়াড় ও কোচ ভিসা পেয়েছেন। তবে কয়েকজন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে আপত্তিকর তথ্য পাওয়ায় তাদের ভিসা অনুমোদন করা হয়নি। নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।''

বিশ্বকাপ চলাকালীন ইরান দলের উপর আরোপিত এই বিশেষ ভ্রমণ বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র আপাতত তাদের নিরাপত্তানির্ভর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি।