আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণকে ইউরোপে ফুটবলার বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। 

অনেক ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়াকে মানবপাচারের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কেউ কেউ ইউরোপে গিয়ে পেশাদার ফুটবলার হতে পারেন, আবার অনেকে প্রতারণা, আইনি জটিলতা ও নির্বাসনের শিকার হন।

ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপট থেকেই উঠে আসেন আইভরি কোস্টের আমাদ দিয়ালো।

আইভরি কোস্টের আবিদজানের আজিদাম এলাকায় বেড়ে ওঠা দিয়ালোর শৈশব কেটেছে কঠিন বাস্তবের মধ্যে। ঘনবসতিপূর্ণ, ব্যস্ত এই এলাকায় প্রতিদিনের জীবন ছিল লড়াইয়ের সমান। 

ছোটবেলায় স্থানীয় কোচ হামেদ মামাদু ত্রাওরের নজরে পড়েন তিনি। বয়স তখন মাত্র আট–নয়। স্কুলের ছুটির সময়ের এক অনুশীলনেই তাঁর টেকনিক ও খেলা আলাদা করে চোখে পড়ে।

পরে তিনি যোগ দেন স্থানীয় ক্লাব 'লিডার ফুট'-এ। সেখান থেকেই ইউরোপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

২০১৫ সালে তিনি ইতালিতে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে ইউরোপীয় ফুটবলের একটি আলোচিত মানবপাচার–সংক্রান্ত তদন্তে। 


ইতালিতে তিনি যোগ দেন আটলান্টা বিসি-র যুব দলে। দ্রুতই সেখানকার সিস্টেমে নিজের দক্ষতার ছাপ রাখেন। ২০১৯ সালে সিরি 'আ'-তে অভিষেক হয় তাঁর এবং অল্প সময়েই গোল করে আলোচনায় আসেন।

এরপর তাঁর কেরিয়ারে বড় পরিবর্তন আসে। ইংলিশ ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে ২০২১ সালে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডে তাঁকে দলে নেয়।

ম্যাঞ্চেস্টারে শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। নিয়মিত খেলার সুযোগ না পেয়ে তিনি লোনে যান স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্স এফসি-তে। 

পরে আবারও ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডে সুযোগ পান। এবারের বিশ্বকাপেই আসে তাঁর সবচেয়ে বড় মুহূর্ত। দিয়ালোর গোলে আইভরি কোস্ট ১-০ গোলে হারায় ইকুয়েডরকে। 
আমাদ দিয়ালোর গল্প স্বপ্ন দেখানোর।