ব্রাজিল ১ (ভিনিসিয়াস জুনিয়র)

মরক্কো ১ (ইসমাইল সাইবারি)

 

আজকাল ওয়েবডেস্ক: এদিনের ম্যাচটাকে কি আদৌ অঘটন বলা চলে? পরিসংখ্যান,বাজেট, বিশ্বকাপের ইতিহাসের বিচারে মরক্কো অবশ্যই পিছিয়ে। কিন্তু হাকিমিরা প্রথম ম্যাচেই যে ঝলকটা দেখালেন তা কিন্তু অন্য টিমগুলোর কাছেই বড়সড় সতর্কবার্তা।

চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেভিওয়েট ব্রাজিলকে আটকে দিল মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিমদের যা পারফরম্যান্স তাতে ব্রাজিল ডিফেন্স ঠিক সময়ে জেগে না উঠলে জিতেও জেতে পারত আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরা।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে মরক্কো সেমিফাইনাল যাবে কেউই ভাবতে পারেনি। এবারে মরক্কো ওই খাতায় কলমেই আন্ডারডগ। দলে হাকিমি, ব্রাহিম ডিয়াজ, মাজরাউইর মতো একাদিক বড় নাম আছে।

এদিন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে প্রথম ৪৫ মিনিটেই মরক্কো বুঝিয়ে দিল গতবারের মতো ডিফেন্সিভ মোডে খেলার মুডে তারা এবার নেই। আফ্রিকান জায়ান্টদের সামনে হিমশিম খেতে দেখা গেল ব্রাজিল ডিফেন্সকে।

ম্যাচের শুরু থেকে যে মরক্কো এরকম ঝড় তুলবে কে ভাবতে পেরেছিল। প্রথম ১৫ মিনিট গোটা খেলাটাই হচ্ছিল ব্রাজিলের অর্ধেই।  যখন ব্রাজিল আস্তে আস্তে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে তখনই ধাক্কা।

২১ মিনিটেই ইসমাইল সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বল ধরে সাইবাড়ি গতিতে পরাস্ত করেন মারকুইনস এবং গ্যাব্রিয়েলকে। সামনে এগিয়ে আসছিলেন অ্যালিসন।

হালকা চিপ করে ব্রাজিল কিপারের ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মরোক্কান মিডিও। তবে গোল শোধ হতেও বেশি সময় লাগেনি। হাইড্রেশন ব্রেকের পর থেকেই প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ বাড়াচ্ছিল ব্রাজিল।

৩২ মিনিটে বাঁদিক থেকে ওঠা আক্রমণে ব্রুনো গামিরেসের বাড়ানো বল থেকে একক দক্ষতায় গোল শোধ করেন ভিনি। ব্রুনোর বাড়ানো বল ধরে বাঁদিক থেকে উঠে এসে জোরালো শটে বল জালে জড়ান ভিনি।

প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আরও একটা সুযোগ পেয়েছিল সেলেকাওরা। বাঁদিক থেকে ডগলাস সান্তোসের ক্রস বক্সের মধ্যে দাঁড়ানো লুকাস পাকেতা বাঁ-পায়ে ভলি মারেন। ইয়াসিন বোনো ঝাঁপ মেরে সেভ দেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর ছবিটা অন্যরকম। বল দখলে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও ডিফেন্স মজবুত রেখে খেলছিল দুই দলই। বিরতিতে কোচ অ্যান্সেলত্তি ক্যাসেমিরো এবং ইবানেজকে বসিয়ে নামান ড্যানিলো এবং ফ্যাবিনহোকে।

তার কিছুক্ষণ পরে পরিবর্তন করেন আক্রমণ ভাগেও। ইগর থিয়াগোর জায়গায় আসেন লুইস হেনরিকে। লুকাস পাকেতার জায়গায় অ্যান্সেলত্তি নামান ম্যাথিউস কুনহাকে। ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলেন রাফিনহা।

ভিনির পাস থেকে বক্সের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা বার্সা ফরোয়ার্ডের শট সোজা চলে যায় বোনোর হাতে। শেষ মুহূর্তে চেপে ধরেছিল ব্রাজিলও। পরিসংখ্যানের হিসেব করলে দেখা যাবে দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের গোল লক্ষ্য করে মরক্কোর শটের সংখ্যা মাত্র একটি।

কিন্তু এদিন সেলেকাও মাঝমাঠ এবং ডিফেন্স নিয়ে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে ছিনিমিনি খেললেন তা যথেষ্ট চিন্তায় রাখবে অ্যান্সেলত্তিকে। রাফিনহাকে একেবারেই চেনা ছন্দে দেখা গেল না। মাঝমাঠ, আক্রমণভাগে ধরা পড়ল না সেই চেনা প্রেসিংয়ের ছবি।

পরের ম্যাচের আগে যথেষ্ট হোমওয়ার্ক বাকি রয়েছে। এদিনের মতো পারফরম্যান্স হলে টুর্নামেন্ট যত গড়াবে ব্রাজিলের চিন্তা তত বাড়বে বইকি কমবে না।