আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে সেনেগাল ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের কড়া নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হওয়ার একটি ভিডিও ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, সাদিও মানে ও কালিদু কুলিবালির মতো বিশ্বমানের তারকাদের উপস্থিতিতে সেনেগালের পুরো দলকে টেক্সাসের সান আন্তোনিও বিমানবন্দরের টারম্যাকে (রানওয়ের পাশে) মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। ফুটবলাররা বিমান থেকে নামার পর খোলা আকাশের নিচেই তাঁদের মালপত্রের পাশে দাঁড়িয়ে এই পরীক্ষার মুখোমুখি হন।

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই অভিযোগ করেন, স্পেন বা অন্যান্য দেশের দলগুলোর ক্ষেত্রে এমন কোনও  দৃশ্য দেখা যায়নি, তবে সেনেগালের মতো আফ্রিকান দলের সঙ্গে কেন এই বৈষম্যমূলক আচরণ করা হল? নেটিজেনদের একাংশ এমনও দাবি করেন যে, নিউ ইয়র্কে উজবেকিস্তান দলের সঙ্গেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনাকে অনেকেই ‘অপমানজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তবে বিতর্ক চরম রূপ ধারণ করায় সেনেগালিজ ফুটবল ফেডারেশন (FSF) একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা ছড়াচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি। এই তল্লাশি সান আন্তোনিওতে নামার পর হয়নি, বরং নর্থ ক্যারোলাইনার রলি বিমানবন্দর থেকে সান আন্তোনিও যাওয়ার ব্যক্তিগত বিমানে ওঠার সময় করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের সুবিধার্থে এবং সময় বাঁচাতে দলটিকে হোটেল থেকে বাসে করে সরাসরি বিমানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে মূল টার্মিনাল বা সাধারণ বোর্ডিং লাউঞ্জে না গিয়ে বিমানের নিচে খোলা টার্ম্যাকেই সমস্ত নিয়মমাফিক নিরাপত্তা ও পুলিশি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। ফেডারেশন স্পষ্ট করেছে যে, এটি সম্পূর্ণ একটি বিশেষ লজিস্টিক ব্যবস্থা ছিল এবং নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে, কোনও  অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এই বিতর্কের মাঝেই সেনেগাল দল বিশ্বকাপে ভালো কিছু করতে মরিয়া। এবার ২৬ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে তারা, যার মূল আকর্ষণ ৩৪ বছর বয়সী তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে। লিভারপুল ও বায়ার্ন মিউনিখের প্রাক্তন এই তারকা বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। প্রধান কোচ পাপে থিয়াও-এর অধীনে ঘোষিত এই স্কোয়াডে রয়েছেন ৩ জন গোলরক্ষক, ৮ জন ডিফেন্ডার, ৭ জন মিডফিল্ডার এবং ৮ জন ফরোয়ার্ড। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘আই’ (Group I)-তে খেলবে সেনেগাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স, নরওয়ে এবং ইরাক।

বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত সেনেগালের ২৬ সদস্যের দলটিতে গোলরক্ষক হিসেবে রয়েছেন এদুয়ার্দ মেন্ডি, মোরি দিয়াও ও ইয়েভন দিউফ। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন কালিদু কুলিবালি, মুসা নিয়াকাহাতে, মামাদু সার, আবদুলায়ে সেক, ক্রেপিন দিয়াত্তা, অ্যান্টোইন মেন্ডি, ইসমাইল জ্যাকবস এবং এল হাদজি মালিক দিউফ। মাঝমাঠে খেলা নিয়ন্ত্রণ করবেন ইদ্রিসা গানা গেয়ে, লামিন কামারা, পাপে গেয়ে, পাপে মাতার সার, হাবিব দিয়ারা, বারা সাপোকো এনদিয়ায়ে এবং পাথে সিস। আর আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব থাকছে সাদিও মানে, ইসমাইলা সার, ইলিম্যান এনদিয়ায়ে, নিকোলাস জ্যাকসন, শেরিফ এনদিয়ায়ে, বাম্বা ডিয়েং, ইব্রাহিমা এমবায়ে এবং আসানে দিয়াও-এর কাঁধে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই ফিফা বিশ্বকাপটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় আয়োজন হতে চলেছে, কারণ এবারই প্রথম ৪৮টি দল মূল পর্বে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে আফ্রিকান মহাদেশ থেকে রেকর্ড সংখ্যক ১০টি প্রতিনিধি দল বিশ্বমঞ্চে লড়ার সুযোগ পেয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার এই সেনেগাল। সব বিতর্ক পেছনে ফেলে মানে-কুলিবালিরা এখন মাঠের পারফরম্যান্সেই নজর দিতে চাইছেন।