আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের বিশ্বকাপ ইতিমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। টানটান ম্যাচ, দুর্দান্ত গোল, নতুন তারকার উত্থান থেকে নাটকীয় মুহূর্ত চোখে পড়েছে সবই।
তবে মাঠের বাইরেও এখন একটা বিষয় নিয়ে শুরু হয়েছে বড় বিতর্ক। আর সেটা হল ম্যাচ চলাকালীন বাধ্যতামূলক ‘হাইড্রেশন ব্রেক’। এই নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচের দুই অর্ধেই প্রায় ২২ মিনিটের মাথায় খেলা থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে তিন মিনিটের জন্য।
তাছাড়া হাফ টাইমের আলাদা বিরতি তো রয়েছেই। খেলোয়াড়দের জল খাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি এই বিরতির সময় সম্প্রচারকারীরা বিজ্ঞাপন দেখানোর সুযোগ পাচ্ছেন। আর এখান থেকেই শুরু হয়েছে সমালোচনা।
ফুটবল গতির খেলা, মোমেন্টামের খেলা। অভিযোগ উঠছে, কোনও দল যখনই ধীরে ধীরে ম্যাচে আধিপত্য তৈরি করছে, চাপ বাড়াচ্ছে বা পিছিয়ে পড়া অবস্থা থেকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করছে, তখনই এই হাইড্রেশন ব্রেক নষ্ট করে দিচ্ছে গোটা ম্যাচের ছন্দ।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, আবহাওয়া বা তাপমাত্রা যাই হোক না কেন, হাইড্রেশন ব্রেক নিতেই হবে এবং তা তিন মিনিটের। শুধু সমর্থকরাই নয়, খেলোয়াড় এবং কোচও এই বিরতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।
নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক বলেন, ‘হাইড্রেশন ব্রেকের বিষয়টি অদ্ভুত।’ তাঁর মতে, টেলিভিশনে যাঁরা খেলা দেখছেন, তাঁদের জন্য মাঝপথে বিজ্ঞাপন দেখানো খুব একটা ভাল অভিজ্ঞতা নয়।
তবে প্রচণ্ড গরম থাকলে এই বিরতি প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি স্বীকার করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রচণ্ড গরম পড়লে ঠিক আছে, কিন্তু তাছাড়া এটি অপ্রয়োজনীয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক স্টেডিয়ামে ছাদ বন্ধ করার ব্যবস্থা এবং এয়ার কন্ডিশনিংয়ের সুবিধা রয়েছে। ফলে আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সব ম্যাচে এই নিয়ম কতটা জরুরি।
তবে কোচদের একাংশ আবার এই বিরতির অন্য দিকও দেখছেন। তাঁদের মতে, এটি কার্যত হাইড্রেশন ব্রেক ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট’-এর কাজ করছে। ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচে এমনই ঘটনা ঘটেছিল।
প্রথম ২০ মিনিট মরক্কো পুরো চেপে বসেছিল ভিনিসিয়াসদের ওপর। সাইবারির গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকান দলটি। হাইড্রেশন ব্রেকের সময় কার্লো অ্যান্সেলত্তি তাঁর খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগ পান।
খেলা শুরু হওয়ার পরপরই সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র। তবে সবসময় এই বিরতি যে সুবিধা দেয়, তা নয়। কুরাসাও জার্মানির বিরুদ্ধে সমতা ফেরানোর পর দারুণ ছন্দে ছিল। কিন্তু হাইড্রেশন ব্রেকের পর চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি সেই যে ম্যাচের রাশ হাতে নেয়, আর ছাড়েনি।
৭-১ গোলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেয় তারা। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বিজ্ঞাপন নিয়ে। ফিফা জানিয়েছে, খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগে সম্প্রচারকারীদের লাইভে ফিরতে হবে।
কিন্তু মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে এই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে খেলা শুরু হওয়ার পরও কয়েক সেকেন্ড বিজ্ঞাপন চলতে থাকে। অভিযোগ উঠছে, ফুটবলটা যেখানে মোমেন্টামের খেলা সেখানে খেলা থামিয়ে কমার্শিয়াল দেখানোর প্রয়োজনটা কী?
দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও এখন পর্যন্ত খুব একটা ইতিবাচক নয়। ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ডালাসের স্টেডিয়ামে হাইড্রেশন ব্রেকের সময় দর্শকদের একাংশকে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
ফিফা হয়তো খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই এই নিয়ম চালু করেছে। তবে সমর্থকদের শান্ত করতে অন্য উপায় ভাবতে হবে ফুটবলের নিয়ামক সংস্থাকে।















