আজকাল ওয়েবডেস্ক: আটলান্টার থ্রিলার ম্যাচে যেন ফুটবলের সব রোমাঞ্চ আর বিতর্ক একাকার হয়ে গেল। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ছাপিয়ে এখন ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)। মাঠের একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকোর একটি গোল বাতিল হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ম্যাচ শেষে মিশরীয় শিবিরের দাবি, পুরো ম্যাচটিই যেন আর্জেন্টিনার পক্ষে সাজানো ছিল।
খেলার শুরুটা কিন্তু আর্জেন্টিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। এর মাঝে লিয়োনেল মেসির পেনাল্টি শট চমৎকারভাবে আটকে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইব। ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় ৫৮ মিনিটে। মোহাম্মদ সালাহর পাস থেকে বল পেয়ে আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়ে দেন মোস্তফা জিকো। যখন মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার উদযাপনে মত্ত, ঠিক তখনই হস্তক্ষেপ করে ভিএআর। দেখা যায়, আক্রমণের শুরুতে মাঝমাঠের কাছে মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেসকে ফাউল করেছিলেন। দীর্ঘ সময় মনিটর পরীক্ষার পর রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়ার গোলটি বাতিল করেন। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। প্রাক্তন ইংলিশ গোলরক্ষক রব গ্রিন প্রশ্ন তুলেছেন, মাঠের এত দূরবর্তী একটি ঘটনার জন্য ভিএআর-এর আদৌ নাক গলানো উচিত ছিল কি না। যদিও
প্রাক্তন ফিফা রেফারি জো মাচনিক মনে করেন, আক্রমণের অংশ হওয়ায় সিদ্ধান্তটি নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে।
অবশ্য এই ধাক্কা মিশরকে দমাতে পারেনি। এর ১০ মিনিট পরেই সালাহ এবং হাসানের দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় আবারও গোল করে মিশরকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেই জিকোই। এই গোলের পর মনে হচ্ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটতে চলেছে। কিন্তু ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দেখাল কেন তারা বিশ্বসেরা। ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোল ব্যবধান কমানোর পর লিয়োনেল মেসি সমতা ফেরান। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেসের হেডার আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করে।
কিন্তু বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি। একদম শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টার সময় পেনাল্টি বক্সের ভেতর মিশরের এক খেলোয়াড়কে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার টেনে ধরলেও রেফারি বা ভিএআর তাতে কোনও সাড়া দেয়নি। এই নিয়ে মাঠের পাশেই মিশরের কোচিং স্টাফদের সাথে রেফারির তুমুল অশান্তি হয়, যার জেরে মিশরীয় বেঞ্চের একজনকে লাল কার্ডও দেখতে হয়।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ আর ধরে রাখতে পারেননি মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তিনি বলেন, আজ আমাদের সাথে চরম অন্যায় করা হয়েছে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চেয়ে আমরা সব দিক থেকে ভালো খেলেছি। কিন্তু মাঠের ভেতরের এবং বাইরের কিছু শক্তি ম্যাচের ফলাফল ঠিক করে দিয়েছে। এটা পরিষ্কার একটা পাতানো ম্যাচ ছিল, যা পুরো দুনিয়া দেখেছে। আইকন সালাহর এই দলটির কোচ আটলান্টার দুপুরের কড়া রোদে ম্যাচ আয়োজনের সময়সূচি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে, ম্যাচ জুড়ে চরম আবেগের মধ্য দিয়ে যাওয়া স্ট্রাইকার জিকো রেফারির সমালোচনা করে বিদ্রূপের সুরে বলেন, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের আগাম অভিনন্দন। তাদের আর অন্য কিছুর দরকার নেই, রেফারিই তাদের জিতিয়ে দেবে। মিশরীয়দের এই বুকভাঙা কান্না আর ক্ষোভ হয়তো খাতার কলমে ম্যাচের ফল বদলাবে না, তবে এই জয় আর্জেন্টিনাকে স্বস্তি দিলেও ভিএআর বিতর্ককে উসকে দিল আরও একবার।
















