আজকাল ওয়েবডেস্ক: সন্তোষে স্বপ্নভঙ্গ বাংলার। কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় নিতে হল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। গতবার কোচ সঞ্জয় সেনের হাত ধরে এসেছিল ট্রফি। এবারও তিনিই ছিলেন কোচ। কিন্তু সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে হেরে গেল বাংলা।
এবারের সন্তোষ ট্রফিতে বারবার অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। যাওয়া আসার ধকল থেকে শুরু করে ফুটবলারদের থাকা ও খাওয়া নিয়ে উঠেছিল একগুচ্ছ অব্যবস্থার অভিযোগ। তবুও লড়াই করে কোয়ার্টারে উঠেছিল বাংলা। কিন্তু সেখানেই হল স্বপ্নভঙ্গ।
সার্ভিসেসের কাছে টাইব্রেকারে ৩–২ গোলে হেরে সন্তোষ ট্রফি থেকে বিদায় নিল সঞ্জয় সেনের দল। হতশ্রী ফুটবল, গোল করতে ব্যর্থতা, এমনকী টাইব্রেকারেও গোল মিসের প্রবণতার ফল ভুগতে হল বাংলাকে। নির্ধারিত সময়ে ফলাফল ছিল গোলশূন্য। টাইব্রেকারে বদলি গোলকিপার গৌরব শ জোড়া সেভ করেও দলের পতন রোধ করতে পারেননি।
এটা ঘটনা সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে লড়াইটা কঠিন ছিল বাংলার। খেলার প্রথম থেকেই বাংলার ফুটবলারদের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছিল সার্ভিসেস। ম্যাচের রাশ ধরে ১৯ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ পায় বাংলা। বাঁ প্রান্ত থেকে আক্রমণ উঠলেও শেষ পর্যন্ত গোলের মুখ খোলেনি।
মাঝমাঠে তন্ময় দাস, চাকু মান্ডিরা সেই কর্তৃত্ব দেখাতে পারছিলেন না। একাধিক ভুল পাস, বল দখলে রাখতে না পারায় সার্ভিসেসের কাছে গোলের দরজা খুলে যাচ্ছিল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ দিকে বাংলার জালে বল জড়িয়ে দেয় তারা। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে আকাশ হেমব্রমকে বসিয়ে বিজয় মুর্মুকে নামান সঞ্জয় সেন। তাতে উইং কিছুটা সচল হলেও সার্ভিসেস নিজেদের গোলের দরজা বন্ধ করে রেখেছিল। রবি হাঁসদাও কিছু করতে পারেননি। বাংলা যে পিছিয়ে পড়েনি তার প্রধান কৃতিত্ব গোলকিপার সোমনাথ দত্তের। ঠিক সময়ে গোললাইন থেকে বেরিয়ে এসে একাধিকবার দলের পতন রোধ করেন তিনি। আর দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে সায়ন ব্যানার্জি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন।
৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত সময়েও ছবিটা একই রকম। সার্ভিসেসের ধারাবাহিক আক্রমণে নাজেহাল অবস্থা হয় বাংলার। ১০০ মিনিটে গোললাইন সেভ করেন চাকু। টাইব্রেকারের আগে গোলকিপার বদল করে বাংলা। সোমনাথের জায়গায় নামেন গৌরব। তিনি দু’টো সেভ করেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। কারণ প্রথম দু’টি শট মিস করেন বাংলার ফুটবলাররা। সেখান থেকে আর কামব্যাক করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হল বাংলাকে।
