ইস্টবেঙ্গল - ৮ (বিষ্ণু - হ্যাটট্রিক, জিকসন, খালিদ-আত্মঘাতী, বিপিন, জেসিন-২)
সিআইএসএফ প্রোটেক্টরস - ০
আজকাল ওয়েবডেস্ক: এই মাঠেই মাস দুয়েক আগে ইতিহাস রচনা করেছিল ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল জিতেছিল অস্কার ব্রুজোর দল। সেই কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামেই লাল হলুদের হেড কোচ হিসেবে প্রথম জয় পেলেন আন্তনিও লোপেজ হাবাস। কলকাতায় কোচিং জীবনে প্রথম ডার্বি হারের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিল লাল হলুদ। হ্যাটট্রিক করেন পিভি বিষ্ণু। জোড়া গোল জেসিন টিকের। বাকি গোল জিকসন এবং বিপিনের। তবে বড় ব্যবধানে জয়ের জন্য যত না খুশি হবেন হাবাস, তার থেকেও বেশি আফসোস করবেন আরও গোলের মালা না পরিয়ে মাঠ ছাড়ার জন্য। এক ডজন বা আরও বেশি গোলে জিততে পারত ইস্টবেঙ্গল।
শুক্রবার রাতে কিশোর ভারতীতে সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসকে নিয়ে ছেলেখেলা করল লাল হলুদ। গোলকিপার রাজ মাহাতো অন্তত চার-পাঁচটা নিশ্চিত গোল বাঁচান। ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররাও কয়েকটা সহজ সুযোগ নষ্ট করে। নয়ত গোল সংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো তার ঠিক নেই। অনায়াসেই ১২ থেকে ১৫ গোলে জিততে পারত হাবাসের দল। ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের হাতছানি ছিল। ২০১৬ সাল থেকে এই রেকর্ড ডেম্পোর নামে। এদিন সেই তালিকায় যুক্ত হল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে তিন গোল। বিরতিতে ৩-০ তে এগিয়ে ছিল লাল হলুদ। দ্বিতীয়ার্ধে আরও পাঁচ। এই গ্রুপে মোহনবাগানের সঙ্গে সমসংখ্যক পয়েন্ট থাকলেও, গোল পার্থক্যে একনম্বরে ইস্টবেঙ্গল। তৃতীয় স্থানে সবুজ মেরুন। গোলের বন্যার ম্যাচে গোলমুখ খুলতে প্রায় ৩৮ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে। হাইড্রেশন ব্রেকে হাবাসের একটি মাস্টারস্ট্রোক বদলে দেয় ম্যাচের রং। ডানদিক থেকে বাঁ দিকে নিয়ে যান বিষ্ণুকে। তাতেই দৌড়তে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। তার আগে পর্যন্ত একাধিক সুযোগ তৈরি করেও তেকাঠিতে রাখতে পারেনি বিষ্ণু, ডিকারা। কিন্তু প্রথম গোলের পর লকগেট খুলে যায়। এরপর মুড়ি মুরকির মতো গোল ইস্টবেঙ্গলের।
এদিন দলে আমূল পরিবর্তন করেন হাবাস। ডার্বির দলকে প্রায় ৫০ শতাংশ বদলে দেন। শুরুতেই নামান দুই বিদেশি রশিদ এবং রামিরেজকে। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে নব্বই, আগাগোড়াই দাপট আইএসএল চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচের ৪ মিনিটে প্রথম সুযোগ। এডমুন্ডের ক্রস থেকে বিষ্ণুর শট পোস্টে লাগে। তার কিছুক্ষণ পরই বিষ্ণুর শট বাঁচায় বিপক্ষের গোলকিপার রাজ মাহাতো। ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার সুযোগ। বিষ্ণুর শট বাঁচান বিপক্ষের গোলকিপার। ফিরতি বলে রশিদের শট ফের কিপারের গায়ে লাগে। ক্লিয়ার করে ডিফেন্ডার। শুক্র রাতে অনবদ্য বিষ্ণু। যত দিন যাচ্ছে আরও পরিণত হচ্ছেন। একপেশে ম্যাচের ৩৮ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। জেসিন টিকের পাস থেকে এডমুন্ডের ক্রস। বাঁ পায়ের আলতো ব্যাক হিলে গোল বিষ্ণুর। চার মিনিটের মধ্যে ২-০। বিষ্ণুর ক্রস ক্লিয়ার করার বদলে নিজেদের গোলে ঠেলে দেন মহম্মদ খালিদ। আত্মঘাতী গোল। বিরতির আগেই ৩-০। রামিরেজের মাইনাস থেকে ডান পায়ের শটে জিকসনের গোল। প্রথমার্ধের একেবারে অন্তিমলগ্নে (৪৫+৪)।
বিরতির পরও ঝড় অব্যাহত। দ্বিতীয়ার্ধের এক মিনিটের মধ্যেই চতুর্থ গোল ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের সেরা গোল। আবার সেই বিষ্ণু। বাঁ দিক থেকে সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে বাইসাইকেল কিকে গোল বিষ্ণুর। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ৫-০ করেন পরিবর্ত ফুটবলার বিপিন সিং। গোল সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। চুংনুঙ্গার শট পোস্টে লাগে। ম্যাচের ৭০ মিনিটে ষষ্ঠ গোল। স্কোরলাইনে নাম লেখান জেসিন টিকে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোল জেসিনের। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ বিষ্ণুর। বিপিনের ক্রস থেকে ডান পায়ের শটে নিজের তৃতীয় গোল করেন। এরপরও ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ এসেছিল লাল হলুদের সামনে।
















