এক সময় মনে করা হত, পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন মূলত ৪০ বছরের বেশি বয়সি মহিলাদের সমস্যা। কিন্তু সেই ধারণা এখন বদলে যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, গত কয়েক বছরে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি সুস্থ ও কর্মক্ষম তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও গলস্টোনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে দায়ী আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং স্থূলতার মতো একাধিক কারণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গলস্টোন তৈরি হয় যখন পিত্তথলির ভেতরে থাকা কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন বা অন্যান্য উপাদান জমে শক্ত পাথরের আকার নেয়। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। তবে সমস্যা বাড়লে পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে তীব্র ব্যথা, বমিভাব, বদহজম, গ্যাস, তৈলাক্ত খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি, এমনকি জ্বরও হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে গলস্টোন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি ঝোঁক, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, হঠাৎ দ্রুত ওজন কমানো এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। অনেকেই ওজন কমানোর জন্য ক্র্যাশ ডায়েট বা অতিরিক্ত উপবাসের পথ বেছে নেন, যা গলস্টোন তৈরির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
এ ছাড়াও স্থূলতা, ডায়াবেটিস, পারিবারিক ইতিহাস, গর্ভাবস্থা এবং কিছু ওষুধও গলস্টোনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বয়স বা লিঙ্গের উপর নির্ভর করে এই রোগকে বিচার করা ঠিক নয়। তরুণদের মধ্যেও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সব গলস্টোনের ক্ষেত্রে অবশ্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। যদি কোনও উপসর্গ না থাকে, তাহলে অনেক সময় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণেই রোগীকে রাখা হয়। কিন্তু বারবার ব্যথা, সংক্রমণ বা জটিলতা দেখা দিলে পিত্তথলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে এই অস্ত্রোপচার করা সম্ভব এবং রোগীও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, গলস্টোনের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন সুষম খাদ্য গ্রহণ, পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘক্ষণ খালি পেটে না থাকা, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং ক্র্যাশ ডায়েট থেকে দূরে থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গলস্টোন আর শুধু মধ্যবয়সি মহিলাদের রোগ নয়। আধুনিক জীবনযাপনের প্রভাবে যে কোনও বয়সের মানুষই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই পেটে বারবার ব্যথা বা হজমের সমস্যা হলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
















