সম্পর্কের দুনিয়ায় এখন প্রায়ই নতুন নতুন শব্দ শোনা যায়। আগে ‘ঘোস্টিং’, ‘ব্রেডক্রাম্বিং’ বা ‘লাভ বম্বিং’-এর মতো শব্দ জনপ্রিয় হয়েছিল। এবার আলোচনায় এসেছে নতুন একটি টক্সিক ডেটিং ট্রেন্ড ‘সিগালিং’।  বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণ একজন মানুষকে মানসিকভাবে খুব ক্লান্ত ও নিরাপদহীন করে তুলতে পারে।


‘সিগালিং’ শব্দটি এসেছে ‘সিগাল’ নামের সমুদ্রের পাখি থেকে। এই পাখি যেমন আচমকা এসে খাবার কেড়ে নিয়ে আবার উড়ে যায়, তেমনই কিছু মানুষ সম্পর্কেও হঠাৎ খুব কাছে আসে, অনেক যত্ন ও ভালবাসা দেখায়, আবার হঠাৎ দূরে সরে যায়। এতে অন্য ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না সম্পর্কটি আসলে কতটা সত্যি বা স্থায়ী।


এই ধরনের মানুষ সাধারণত নিজেদের সুবিধামতো যোগাযোগ রাখে। যখন তারা একা অনুভব করে, মন খারাপ থাকে বা কারও মনোযোগ চায়, তখন হঠাৎ ফোন, মেসেজ বা অতিরিক্ত ভালবাসা দেখাতে শুরু করে। তারা এমনভাবে কথা বলে যেন সম্পর্কটি খুব গভীর। কিন্তু কিছুদিন পর আবার কোনও কারণ ছাড়াই দূরে সরে যায়। অনেক সময় মেসেজের উত্তর দেয় না, দেখা করতে চায় না বা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা এড়িয়ে যায়।


সবচেয়ে খারাপ বিষয় হল, এতে অপর ব্যক্তি মানসিকভাবে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ভাবতে থাকেন, 'হয়তো এবার সব ঠিক হবে।' কিন্তু বারবার একই ঘটনা ঘটতে থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। অনেকেই তখন নিজেকেই দোষ দিতে শুরু করেন।


মনোবিদদের মতে, ‘সিগালিং’ খুব সূক্ষ্মভাবে মানসিক ক্ষতি করে। কারণ এখানে সম্পর্ক পুরোপুরি শেষও হয় না, আবার স্থিরও থাকে না। ফলে মানুষ সবসময় এক ধরনের আশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে থাকেন। এটিই সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে।


কীভাবে বুঝবেন আপনি ‘সিগালিং’-এর শিকার? যদি দেখেন কেউ শুধুমাত্র নিজের প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করছে, মাঝেমধ্যে খুব বেশি ভালবাসা দেখাচ্ছে কিন্তু সম্পর্কের দায়িত্ব নিতে চাইছে না, তাহলে সতর্ক হওয়া দরকার। সুস্থ সম্পর্কে ধারাবাহিকতা, সম্মান এবং স্পষ্টতা থাকে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের মানসিক শান্তিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কোনও সম্পর্ক যদি বারবার কষ্ট দেয় বা আপনাকে বিভ্রান্ত করে, তাহলে সেই সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। কারণ সত্যিকারের সম্পর্ক কখনও অনিশ্চয়তায় ফেলে রাখে না।