বাঙালির আড্ডায় ‘সিঙ্গাড়া’ আর বিকেলের চা যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু বাংলা নয়, বাংলার সিঙ্গাড়ার পাশাপাশি গোটা ভারতবর্ষেই সমোসার জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। তবে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ সিঙ্গাড়া নিয়ে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে ভোজনরসিকদের চোখ কপালে উঠেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তি হরেক রকমের রাসায়নিক রঙ তুলি দিয়ে মাখিয়ে দিচ্ছেন হুবহু সিঙ্গাড়ার মতো দেখতে ত্রিকোণ কিছু জিনিসের ওপর!
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই নেটপাড়ায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। খাবারে ভেজাল মেশানোর এই চরম রূপ দেখে অনেকেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সত্যিই কি আমরা যে সিঙ্গাড়া খাই, তাতে এভাবে রঙ মেশানো হচ্ছে? না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনও গল্প?
এক্স হ্যান্ডেলে এক নেটিজেন ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “ওঁরা সিঙ্গাড়াতে রঙ লাগাচ্ছেন। আমি ভাবতাম সিঙ্গাড়া অন্তত খাঁটি জিনিস, কিন্তু এখানেও ভেজাল ঢুকে গেল!”
ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মেঝেতে বসে এক ব্যক্তি চারপাশ জুড়ে রাখা থরে থরে সিঙ্গাড়ার আকারের বস্তুতে ব্রাশ দিয়ে সোনালী-বাদামি রঙ করছেন। এবং রঙের পোঁচ পড়ার পরমুহূর্তেই যা দেখতে হয়ে যাচ্ছে ঠিক টাটকা ছাঁকা তেলের সিঙ্গাড়ার মতো! পাশে রাখা কিছু বাটিতে তরল রঙ এবং আরও অনেকগুলো রঙ না করা ‘কাঁচা’ সিঙ্গাড়া রাখা রয়েছে। ভিডিওটি দেখে মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয়। এক ব্যবহারকারী কমেন্ট করেন, “সিঙ্গাড়াতে রঙ করার কী দরকার? এতে কী লাভ হবে ওদের?” অন্য একজন লেখেন, “শেষমেশ সিঙ্গাড়াও বিশ্বাসঘাতকতা করল!”
এরপর ভিডিওটি ভাল করে খতিয়ে দেখার পর এবং অন্যান্য সচেতন নেটিজেনদের হস্তক্ষেপে আসল সত্যটি সামনে এসেছে। অধিকাংশ নেটিজেনই দাবি করেছেন, ভিডিওর ওই জিনিসগুলো কোনওভাবেই খাওয়ার উপযোগী সিঙ্গাড়া নয়। এগুলো আসলে মাটি বা প্লাস্টার অফ প্যারিস দিয়ে তৈরি এক ধরনের আর্টিফিশিয়াল বা শো-পিস , যা সাধারণত শো-কেস সাজাতে বা দোকানের কাউন্টারে ডিসপ্লে হিসেবে রাখার জন্য তৈরি করা হয়।
এক নেটিজেন আসল সত্যিটা ধরে দিয়ে কমেন্টে লেখেন, “আরে পাগল, ওটা নকল সিঙ্গাড়া, খাওয়ার জিনিস নয়!” অন্য একজন শিল্পীর প্রশংসা করে লেখেন, “উনি একজন শিল্পী এবং এই সিঙ্গাড়াগুলো খাওয়ার জন্য নয়, এগুলো স্রেফ শো-এর জন্য। ঠিক যেমন দোকানে প্লাস্টিকের তৈরি নকল ফল সাজিয়ে রাখা থাকে। শিল্পীর কারুকার্যকে কুর্নিশ জানাতেই হয়, কারণ উনি মাটির সিঙ্গাড়াকে এমন রঙ করেছেন যা দেখে একদম আসল বলে ভুল হচ্ছে!”
ভিডিওটিতে যে প্রক্রিয়ায় রঙ করা হচ্ছিল, তা কোনওভাবেই খাবার তৈরির পদ্ধতি নয়, বরং পুতুল বা মাটির খেলনা রঙ করার হস্তশিল্পের কাজ। বর্তমানের ডিজিটাল যুগে না জেনে না বুঝে যেকোনো ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই নিশ্চিন্তে থাকুন, আপনার সাধের বিকেলের গরম সিঙ্গাড়ায় কোনও তুলি দিয়ে রঙ করা হচ্ছে না, ওটি স্রেফ একজন মৃৎশিল্পীর চমৎকার হাতের কাজ ছিল!















