মাথা ও গলার ক্যানসার এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা ধূমপান করেন, তামাক বা গুটখা খান কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাঁদের এই ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি। তবে শুধু এই অভ্যাস থাকলেই যে ক্যানসার হবে, তা নয়। অনেক সময় অন্য কারণেও এই রোগ হতে পারে। তাই শরীরের কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণকে কখনও হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসকদের মতে, কয়েকটি প্রাথমিক লক্ষণ সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। এতে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই বেড়ে যায়।
১. মুখের ঘা দীর্ঘদিন না সারলে: অনেকেরই মুখে ঘা হয়। সাধারণত ভিটামিনের অভাব, দাঁতের ধারালো অংশে ঘষা লাগা বা সংক্রমণের কারণে এমনটা হতে পারে। কিন্তু যদি মুখের ঘা ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেও না সারে, বারবার একই জায়গায় ঘা হয় বা ঘা থেকে রক্তপাত শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি মুখের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
২. গলার স্বর বদলে যাওয়া: সর্দি-কাশির সময় গলা বসে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও যদি ২-৩ সপ্তাহ ধরে গলার স্বর কর্কশ থাকে বা আগের মতো না হয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ধূমপায়ী বা তামাক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ গলার ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. গলায় শক্ত গাঁট বা ফোলা: গলার এক পাশে বা দুই পাশে শক্ত গাঁট অনুভব হলে সেটিকে অবহেলা করবেন না। অনেক সময় ক্যানসার লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়লে এমন গাঁট তৈরি হয়। যদিও সব গাঁটই ক্যানসার নয়, তবুও কারণ জানা জরুরি। তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
শুধু এই তিনটি লক্ষণই নয়, আরও কিছু উপসর্গ মাথা ও গলার ক্যানসারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। যেমন খাবার গিলতে ব্যথা বা অসুবিধা হওয়া, মুখ বা জিভে সাদা বা লাল দাগ দেখা দেওয়া, মুখ থেকে অকারণে রক্তপাত হওয়া, দীর্ঘদিন কানে ব্যথা থাকা, নাক বন্ধ থাকা বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মুখ বা জিভ নাড়াতে সমস্যা হওয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
কারা বেশি ঝুঁকিতে? যাঁরা ধূমপান করেন, গুটখা বা জর্দা খান, অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাঁদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)-এর সংক্রমণ, মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং দীর্ঘদিন তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলেও এই ক্যানসারের আশঙ্কা বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বর্তমানে রোবোটিক ও লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে এমনভাবে অস্ত্রোপচার করা হচ্ছে, যাতে রোগীর কথা বলা, শ্বাস নেওয়া এবং খাবার গিলতে পারার স্বাভাবিক ক্ষমতা অনেকটাই বজায় থাকে। তাই মুখে কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতনতা এবং দ্রুত পরীক্ষা-ই এই ক্যানসারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
















