অনেক সময় সকালে ঘুম থেকে উঠে বা পোশাক বদলানোর সময় দেখা যায়,  হাতে-পায়ে বা শরীরের অন্য কোথাও নীলচে বা কালচে দাগ হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, কোথাও ধাক্কা লাগার বা আঘাত পাওয়ার কথা মনে থাকে না। এমন ঘটনা এক-দু'বার হলে সাধারণত চিন্তার কারণ নেই। তবে যদি বারবার এমন দাগ দেখা যায়, তাহলে তা শরীরের কোনও সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।


আমাদের শরীরে অসংখ্য ছোট ছোট রক্তনালি রয়েছে। কোনও কারণে এই রক্তনালিগুলি ফেটে গেলে ত্বকের নিচে রক্ত জমে যায় এবং নীলচে বা বেগুনি রঙের দাগ তৈরি হয়। অনেক সময় খুব হালকা ধাক্কা লাগলেও দাগ হতে পারে, যা আমরা খেয়ালই করি না।


তবে আঘাত ছাড়াই ঘন ঘন দাগ হওয়ার পিছনে কিছু শারীরিক কারণও থাকতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল ভিটামিনের ঘাটতি। বিশেষ করে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে শরীরের রক্তনালি ও রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাব হলে সহজেই শরীরে নীলচে দাগ দেখা দিতে পারে।


এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গেও এই সমস্যা দেখা যায়। বয়স বাড়লে ত্বক পাতলা হয়ে যায় এবং রক্তনালিগুলি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য চাপ বা ঘর্ষণেও দাগ হতে পারে।
কিছু ওষুধের কারণেও এমন হতে পারে। যারা দীর্ঘদিন রক্ত পাতলা করার ওষুধ, অ্যাসপিরিন, স্টেরয়েড বা কিছু ব্যথার ওষুধ খান, তাঁদের শরীরে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্রুইজ বা নীলচে দাগ দেখা যেতে পারে।


কখনও কখনও রক্তের প্লেটলেট কমে গেলে বা রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যার কারণে শরীরে অকারণে দাগ হতে পারে। লিভারের রোগ, কিছু রক্তজনিত অসুখ কিংবা লিউকেমিয়ার মতো গুরুতর রোগের ক্ষেত্রেও এই লক্ষণ দেখা যায়। যদিও এমন রোগ বিরল, তবু বারবার দাগ হলে পরীক্ষা করানো জরুরি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি নীলচে দাগের পাশাপাশি নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাত, অতিরিক্ত ক্লান্তি, জ্বর, মাথা ঘোরা, ওজন কমে যাওয়া বা শরীরে দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


সাধারণত সমস্যা গুরুতর না হলে কয়েক দিনের মধ্যে রং বদলাতে শুরু করে। প্রথমে নীল বা বেগুনি, পরে সবুজ, হলুদ এবং শেষে বাদামি হয়ে মিলিয়ে যায়। কিন্তু দাগ যদি দীর্ঘদিন না সারে বা নতুন নতুন দাগ বারবার দেখা দেয়, তাহলে রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 


শরীরে অকারণে নীলচে দাগকে তাই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণ সাধারণ হলেও, কখনও কখনও এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনও সমস্যার প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। তাই প্রথম থেকেই সচেতন থাকুন।