আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথাগত সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তৃতীয় কোনও ব্যক্তি চলে সংসারে ঝামেলার সূত্রপাত হয়। কিন্তু ফ্লোরিডার এই দম্পতির ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁদের মতে সম্পর্কে বিশ্বস্ততার নানা রূপ থাকতে পারে। ৪৭ বছর বয়সী রবিন এবং তাঁর স্বামী ৪৩ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার অ্যালেসিচ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিবাহিত। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিবাহের বাইরেও রোমান্টিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
এই দম্পতি তাদের জীবনধারাকে পলিঅ্যামোরি বা বহুগামী সম্পর্ক হিসেবে পরিচয় দেন। যা এমন একটি সম্পর্ক যেখানে সঙ্গীরা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে মানসিক ও রোমান্টিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকেন। রবিন এবং ক্রিস্টোফারের মতে, এই সিদ্ধান্তটি কোনও দাম্পত্যকলহ বা তাঁদের বিবাহ বাঁচানোর চেষ্টার কারণে নেওয়া হয়নি। বরং, তাঁদের নিজেদের সম্পর্ককে আরও গভীর করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই নেওয়া হয়েছে।
এসবের শুরু ২০১১ সালে। বিয়ের নয় বছর পর তাঁদের এক বান্ধবী তাঁদের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। বন্ধুত্বের বাইরে গিয়ে তাঁরা ধীরে ধীরে বিয়ের প্রচলিত সীমারেখাগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেন। সেই থেকে এই দম্পতি তিনটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কে জড়িয়েছেন। প্রতিবারই তাঁরা অন্য একজন নারীকে তাঁদের জীবনে সমান স্থান দিয়েছেন।
রবিন বলেন, বহুগামীতা প্রায়শই ভুলবশত কেবল শারীরিক ঘনিষ্ঠতা হিসেবেই গণ্য করা হয়। তাঁর যুক্তি, এটি বাস্তবে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। তিনি বলেন, “এটা শুধু শোওয়ার ঘরের বিষয় নয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, তাঁরা এমন সঙ্গী খোঁজেন যাঁদের সঙ্গে সুখ, দায়িত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা অংশ ভাগ করে নেওয়া যায়।
দম্পতি এখন একটি ডেটিং অ্যাপ চালান। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন যে, এই ধরনের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সততা ও যোগাযোগ অপরিহার্য। রবিন বিশ্বাস করেন যে স্বচ্ছতা সংঘাত প্রতিরোধে সাহায্য করে। তিনি বলেন, “শুরুতেই সীমা নির্ধারণ করা এবং নিজেদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলে ঈর্ষার সম্ভাবনা কমে যায়।” তিনি আরও বলেন, “যদি আপনারা একে অপরের সঙ্গে সবকিছু ভাগ করে নেন, তবে সমস্যা সমাধান করা সহজ হয়ে যায়।”
ক্রিস্টোফার দাবি, বহুগামীতাকে সম্পর্কে প্রতারণার সঙ্গে তুলনা করা উচিৎ নয়। তিনি বলেন, “সব সম্পর্কই সম্মতি এবং নিয়মের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। যে কোনও সম্পর্কেই ঈর্ষা থাকতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ হল কীভাবে এর মোকাবিলা করা হয়।”
এই দম্পতি ‘কম্পারশন’ ধারণাটিরও উল্লেখ করেছেন। যা বহুগামী সম্পর্কে বিশ্বাসীদের সম্প্রদায়ে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা। এর মাধ্যমে সেই অনুভূতিকে বোঝানো হয় যখন নিজের সঙ্গী অন্য কারও সঙ্গে মানসিক সংযোগ স্থাপন করলে নিজে আনন্দ অনুভব করা যায়। এটিকে প্রায়শই ঈর্ষার বিপরীত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যদিও দম্পতি দাবি করেছেন, তাঁরা তাঁদের জীবনধারা নিয়ে সন্তুষ্ট। রবিন স্বীকার করেছেন, সামাজিক কলঙ্ক এখনও বড় বিষয়। অনেক মানুষ সমালোচিত হওয়ার ভয়ে এই ধরনের সম্পর্ক লুকিয়ে রাখেন।”
