আজকাল ওয়েব ডেস্ক: প্রসূতি মায়ের প্রাণ সংশয়ের কারণ যদি তার গর্ভধারণ হয়, সেই ভাবে বিবেচনা করে ১৯৭১ সালের গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন বা মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্টকে সংশোধন করে ২০ সপ্তাহের পরিবর্তে ২০২১ সালে ২৪ সপ্তাহ পর্যন্ত গর্ভপাতের সময়সীমাকে অনুমোদিত করা হয়েছে।অন্য আর কি পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে সেটাও জানা জরুরি।

ধর্ষণ, শারীরিকভাবে নিগ্রহ, কারও দ্বারা যৌন লাঞ্ছনা ও লালসার শিকার, ভিন্নভাবে সক্ষম মহিলা অথবা নাবালিকারা গর্ভবতী হয়ে পড়লে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। অভিজ্ঞ ডাক্তাররা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে গর্ভপাতের বিষয়টি স্থির করেন।মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়ার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর গর্ভপাত করালে তাঁদের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে উপযুক্ত পরিষেবা এবং গুণমান বজায় রাখার বিষয়ে ওয়াকিবহাল থাকা উচিত।

কপার টি, কন্ডোম, কন্ট্রাসেপটিভ পিল প্রভৃতি জন্ম নিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারে ব্যর্থতার ফলে অযাচিত গর্ভধারণ হতে পারে।মহিলারা ডাক্তারের কাছে তাঁদের অবাঞ্ছিত গর্ভধারণের অনিচ্ছা প্রকাশ করে গর্ভপাতের আবেদন করতে পারেন।গর্ভধারণ প্রতিরোধ পদ্ধতি, সংযমী যৌনচর্চা, ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ঐচ্ছিকভাবে সন্তান ধারণ থেকে বিরত থাকার অর্থ হল জন্ম নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনও কারণবশত সেই পরিস্থিতিতে ব্যর্থ হলে গর্ভপাতকেই বিকল্প হিসাবে নির্বাচন করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রসূতি মায়ের জীবন বিপন্ন হওয়া থেকে বাঁচাতে সঠিক পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে চিকিৎসকের কাছে গর্ভপাতের অনুমতি প্রয়োজন।

তাছাড়া ডাউন সিনড্রোম, হার্টের সমস্যা, নার্ভ বা স্পাইনের কাঠামোগত ত্রুটি, মস্তিষ্কের গঠনগত ত্রুটি বা জেনেটিক অ্যানোমলি থাকলে প্রসূতি মাকে ডাক্তারি পরামর্শমতো ও আইনগতভাবে গর্ভপাত করানো হয়।ভ্রূণের তিন মাস বয়সে এই জেনেটিক ও অ্যানোমালি পরীক্ষা করে ভ্রূণের গঠনের অবস্থান জানা যায়।কোনও অস্বাভাবিকতা এবং সমস্যার সৃষ্টি হলে গর্ভধারণের সময়সীমা থেকে সর্বোচ্চ ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানো যেতে পারে।

মৃগীরোগ, প্রাইমারি পালমোনারি হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা,হার্ট ও ফুসফুসে অনিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট অর্থাৎ সেপ্টাল বা হার্টের প্রাচীরে ছিদ্র বা ত্রুটি প্রভৃতি বিশেষ কোনও অসুখ থাকলে গর্ভস্থ ভ্রূণের থেকে প্রসূতির স্বাস্থ্য ও জীবনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।তখন গর্ভপাতের প্রয়োজন পড়ে।

বর্তমানে নির্দিষ্ট আইন, সুপরিষেবা, অভিজ্ঞ গাইনোকলজিস্ট চিকিৎসক থাকা সত্ত্বেও বেআইনি গর্ভপাতের সংখ্যাটা নিতান্তই কম নয়।ফলত প্রসূতির প্রচুর রক্তপাত, সংক্রমণ ও ইনফেকশনের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে।সুতরাং সর্বদা পরিস্থিতি বিচার-বিবেচনা করে ডাক্তারের পরামর্শমতো গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।