প্রযুক্তির দুনিয়ায় প্রতিদিন কতই না অদ্ভুত আবিষ্কারের কথা আমরা শুনি। কিন্তু প্রযুক্তির সঙ্গে যদি অন্তর্বাস আর ‘খাঁটি ভালবাসা’-র এক অদ্ভুত ককটেল তৈরি করা হয়, তবে কেমন হবে? শুনতে কল্পকাহিনি অথবা সিনেমার মতো মনে হলেও, এটাই সত্যি। বেশ কয়েক বছর আগে জাপানি অন্তর্বাস প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ‘রাভিজুর’ বিশ্ববাজারে এনেছিল এক অদ্ভুত ও অবিশ্বাস্য “স্মার্ট ব্রা”। প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি ছিল, এই বিশেষ অন্তর্বাসটি নাকি যে নারী পরেছে, তার শরীরে ‘আসল ভালবাসা’ বা ‘খাঁটি প্রেম’-এর সঞ্চার না হলে কোনওভাবেই খুলবে না!

এত বছর পর টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং রেডিট-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে অদ্ভুত ও আজব আবিষ্কারের তালিকায় এই ‘ট্রু লাভ ব্রা’ -র বিষয়টি নতুন করে ফিরে এসেছে এবং তা দেখে নেটিজেনরা ফের একবার হুলস্থুল কাণ্ড বাধিয়ে দিয়েছেন।সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ‘স্মার্ট ব্রা’-এর ভেতরে বসানো ছিল বিশেষ কিছু হার্টরেট সেন্সর, যা ব্লুটুথের মাধ্যমে একটি স্মার্টফোন অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকত। 

হার্টবিট মনিটর: সেন্সরগুলো অনবরত পরিধানকারীর হৃদস্পন্দনের প্যাটার্ন এবং ওঁর শরীরের উত্তেজনার মাত্রা (Emotional excitement levels) ট্র্যাক করত।

২. অ্যালগরিদমের খেল: অ্যাপের ভেতরের বিশেষ অ্যালগরিদম বিশ্লেষণ করে দেখত যে এই হৃদস্পন্দন কি সাধারণ হাঁটাচলা বা ভয়ের কারণে বাড়ছে, নাকি কোনও বিশেষ মানুষের সামনে যাওয়ার পর ‘রোম্যান্টিক উত্তেজনার’ কারণে বাড়ছে।

৩. ডিজিটাল লক: যখনই পরিধানকারীর শরীরে খাঁটি রোম্যান্টিক অনুভূতি বা ‘আসল ভালবাসা’ তৈরি হতো, কেবল তখনই এই অন্তর্বাসের হুকটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অটোমেটিকভাবে খুলে যেত!

বছরের পর বছর ধরে যখনই এই প্রোডাক্টের কনসেপ্টটি ইন্টারনেটে ঘুরেফিরে আসে, তখনই নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। মূলত ৪টি আলাদা প্রতিক্রিয়ায় ভাগ হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়া -

রোম্যান্টিক ও রোমাঞ্চকর: কিছু মানুষ এটিকে বেশ রোমান্টিক এবং দারুণ এক ফিউচারিস্টিক উদ্ভাবন বলে মনে করেছিলেন।

অপ্রয়োজনীয় ও হাস্যকর: অনেকের মতেই এটি ছিল সম্পূর্ণ অর্থহীন এবং হাস্যকর এক গ্যাজেট।

ভয়ের ও অদ্ভুত: একটি বড় অংশের দাবি ছিল, এই ধরণের প্রযুক্তি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আবেগের ওপর এক ধরণের সাইকো-ডিজিটাল নজরদারি, যা বেশ ভয়ঙ্কর।

পাগলামি: বাকিদের মতে, এই প্রযুক্তি জোর করে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকিয়ে দেওয়ার এক চরম পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাস্তবে এই প্রোডাক্টটি বাণিজ্যিক বাজারে বিপুল সাফল্য না পেলেও, এটি আজও টেক-দুনিয়ার ইতিহাসের অন্যতম অদ্ভুত ‘পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি’ বা অদ্ভুত প্রযুক্তির উদাহরণ হিসেবে রয়ে গেছে। কোনও কোম্পানি ওদের বিপণন বা মার্কেটিং ক্যাম্পেইনকে ভাইরাল করার জন্য কত দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা অদ্ভুত হতে পারে— এই জাপানি ‘স্মার্ট ব্রা’ তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।