কাজ হয়ে যায় আগেই, তবুও যেন বেরিয়ে আসতে ইচ্ছা হয় না। মন বলে, ‘আর পাঁচ মিনিট!’ আর এভাবেই গড়িয়ে যায় সময়। আপাত দৃষ্টিতে এটিকে নিরীহ অভ্যাস মনে হলেও শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে আপনার অজান্তেই। 

স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে, যার ফলে অনেকেই প্রায় কখনওই তাদের ফোন থেকে আলাদা হন না। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বহু মানুষ টয়লেটে বসে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করছেন বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও দেখছেন। আর সেই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এটি স্বাস্থ্য সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৬৬% অংশগ্রহণকারী স্বীকার করেছেন যে তারা টয়লেটে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। কোলোনোস্কোপি ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা ফোন ব্যবহার করেননি, তাঁদের মধ্যে কেবল ৩৮%-এর হেমোরয়েডস দেখা গেছে, যেখানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৫১%-এর হেমোরয়েডস ধরা পড়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বয়স, লিঙ্গ, বিএমআই, ব্যায়াম, টয়লেটে চাপ দেওয়া এবং ফাইবার গ্রহণের মতো অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করার পরও টয়লেটে স্মার্টফোন ব্যবহার হেমোরয়েডসের ঝুঁকি ৪৬% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা টয়লেটে সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি সময় কাটান। সাধারণত সেখানে যে কাজগুলি বেশি করতে দেখা যায়, সেগুলির মধ্যে রয়েছে সংবাদপত্র পড়া (৫৪%) এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্রাউজ করা (৪৪%)। বিশেষজ্ঞদের মতে, টয়লেটে বসার সময় পেলভিক ফ্লোরকে সঠিকভাবে সাপোর্ট না দেওয়ায় হেমোরয়েডাল কুশনগুলিতে চাপ বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ সময় এই চাপ থাকার ফলে কুশনগুলি ফুলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত হেমোরয়েডস তৈরি হতে পারে।

ডায়েটও হজমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জাঙ্ক ফুড, যাতে বেশিরভাগ সময়ই ফাইবার কম থাকে, তা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য হজমজনিত সমস্যার দিকে নিয়ে যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হেমোরয়েডসের ঘটনা বাড়তে থাকায়, বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ফাইবারযুক্ত খাবার যেমন ফল, সবজি এবং গোটা শস্য গ্রহণ বাড়ানো, জাঙ্ক এবং ফাস্ট ফুড কম খাওয়া এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, টয়লেটে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার এড়ানো।

অতএব স্বাস্থ্য সচেতনতা শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক কার্যকলাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাস যেমন টয়লেটে বসে দীর্ঘ সময় ফোনে কাটানোও আমাদের স্বাস্থ্যের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বলা ভাল, ক্ষতি করতে পারে। সচেতন মনোভাব এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদে শরীর এবং মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারি। স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা মানে শুধু রোগ প্রতিরোধ নয়, বরং জীবনযাত্রার মানও উন্নত করা।