ইংরেজিতে এক বহু প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘ওয়ান্স ইন আ ব্লু মুন’, অর্থাৎ ‘কালেভদ্রে’। আজ, ৩১ মে, সেই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হতে চোখ রাখুন আকাশে। এক ক্যালেন্ডার মাসের মধ্যে দ্বিতীয় পূর্ণিমা — যাকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ব্লু মুন’। এ বছরের প্রথম ও একমাত্র ব্লু মুন এটিই।
কেবল ‘ব্লু মুন’ নয়, এই বছরের সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমাও আজই। সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশের দিকে চোখ রাখলেই দেখা মিলবে চাঁদের পাশে জ্বলজ্বল করা লাল-কমলা তারা অ্যান্টারেস।
ব্লু মুন রঙে নীল হয় না। নামটির ব্যাখ্যা লুকিয়ে এর বিরলতাতেই। প্রায় ৪০০ বছর আগে ইংরেজি ভাষায় শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হত এমন কিছু বোঝাতে, যা প্রায় কখনওই ঘটে না। জ্যোতির্বিদ্যার ভাষায় দু’রকম ব্লু মুন — এক ক্যালেন্ডার মাসে দ্বিতীয় পূর্ণিমা, অথবা চারটি পূর্ণিমাযুক্ত কোনও ঋতুর তৃতীয় পূর্ণিমা।
মে মাসের প্রথম পূর্ণিমা ছিল ১ তারিখে (বৈশাখী বুদ্ধপূর্ণিমা)। ৩১ মে দ্বিতীয় দ্বিতীয় পূর্ণিমা৷
জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসেবে চাঁদ আজ ভারতীয় সময়ে বেলা ২টো ১৫ মিনিটে পরিপূর্ণ আকার নেবে। তখন এ দেশে দিনের আলো, তাই খালি চোখে চাঁদ দৃশ্যমান নয়। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য মিলবে আজ সূর্যাস্তের পর পূর্ব আকাশে; সারা রাত উজ্জ্বল চাঁদ সঙ্গ দেবে আকাশপ্রেমীদের।
মাইক্রোমুন
এই ব্লু মুন আবার ২০২৬-এর সবচেয়ে ছোট পূর্ণিমা। চাঁদ পৃথিবী থেকে রয়েছে প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার কিলোমিটার দূরে। যা গড় দূরত্বের চেয়ে অনেকটাই বেশি। ফলে এটি দেখাবে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ ম্লান, আর কোনও সুপারমুনের চেয়ে ২৫-৩০ শতাংশ ছোট। জ্যোতির্বিদরা একে বলছেন ‘মাইক্রোমুন’।
চাঁদের পাশে অ্যান্টারেস
চাঁদের গা ঘেঁষে জ্বলজ্বল করবে এক উজ্জ্বল লাল-কমলা তারা, নাম অ্যান্টারেস। বৃশ্চিক নক্ষত্রমণ্ডলের ‘হৃদয়’ হিসেবে পরিচিত এই লোহিত-দানব তারাকে গ্রিকরা ডাকতেন ‘অ্যান্টি-অ্যারিস’, অর্থাৎ ‘মঙ্গলগ্রহের প্রতিদ্বন্দ্বী’। কারণ তার রঙ এতটাই মঙ্গলের মতো লাল। খালি চোখেই দু’টিকে একসঙ্গে দেখা যাবে।















