আমাদের চারপাশে এমন কিছু মানুষ থাকেন যারা সারাক্ষণ কোনও না কোনও বিষয় নিয়ে অভিযোগ করেন অথবা নেতিবাচক কথা বলেন। এঁদের সঙ্গে বেশিক্ষণ থাকলে নিজের মনের ওপর চাপ পড়ে এবং কাজের উৎসাহ হারিয়ে যায়। কিন্তু সমাজ বা কর্মক্ষেত্রে এই ধরনের মানুষদের এড়িয়ে চলা সবসময় সম্ভব হয় না। তাই নিজের মানসিক শান্তি বজায় রেখে কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন, তার কিছু সহজ উপায় জেনে নিন-

১. তর্কে না জড়িয়ে শান্ত থাকুনঃ নেতিবাচক মানুষরা অনেক সময় চান আপনি তাঁদের কথায় সায় দিন বা উত্তেজিত হয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেখান। কিন্তু আপনি যদি তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ান, তবে আলোচনার নেতিবাচকতা আরও বাড়বে। তাই কেউ যখন আপনার সামনে অনবরত অভিযোগ করতে থাকবেন, তখন শান্তভাবে শুধু শুনুন। কোনও জোরালো মন্তব্য করবেন না। আপনার নিস্পৃহ মনোভাব দেখলে তাঁরা এক সময় কথা বলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন।

২. আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিনঃ নেতিবাচক মানুষরা কেবল সমস্যা নিয়েই পড়ে থাকতে ভালবাসেন। আপনি আলোচনার দিকটি সমস্যার বদলে সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন কেউ যদি সারাক্ষণ অফিসের কাজের চাপ নিয়ে নালিশ করেন, তবে তাঁকে জিজ্ঞেস করুন, 'এই চাপ কমানোর জন্য তুমি কী ভাবছ?' বা 'চল, কফি খেয়ে মনটা একটু ফ্রেশ করি।' এতে আলোচনার বিষাক্ত ভাবটা কিছুটা কমে।

৩. নিজের জন্য 'না' বলতে শিখুনঃ আপনার সময়ের মূল্য অনেক। কেউ যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনার কান ঝালাপালা করে দেয়, তবে বিনয়ের সঙ্গে সরে আসুন। সরাসরি বলতে পারেন, 'তোমার কথা শুনলাম, কিন্তু এখন আমার একটা জরুরি কাজ আছে, তাই উঠতে হচ্ছে।' নিজের জন্য এই সীমারেখা তৈরি করা খুব জরুরি, নয়তো অন্যরা আপনার মানসিক শক্তি শুষে নেবে।

৪. সব কথা ব্যক্তিগতভাবে নেবেন নাঃ মনে রাখবেন, নেতিবাচক মানুষেরা আসলে নিজেদের নিয়ে বা নিজেদের পরিস্থিতি নিয়ে অসুখী। তাঁদের কটু কথা বা আচরণের কারণ আপনি নন, বরং তাঁদের নিজস্ব মানসিকতা। তাই তাঁরা আপনাকে বা অন্য কাউকে নিয়ে কিছু বললে সেটাকে মনে ধরে রাখবেন না। বিষয়টি সেখানেই ছেড়ে দিন।

৫. ইতিবাচক মানুষের সঙ্গ ধরুনঃ দিনের অনেকটা সময় যদি নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে কাটে, তবে বাকি সময়টা এমন মানুষদের সঙ্গে কাটান যারা আপনাকে হাসাতে পারে বা নতুন কিছু শেখাতে পারে। ভাল বই পড়া, গান শোনা বা পছন্দের কোনও কাজ করাও আপনাকে এই মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেবে।

৬. অযথা উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুনঃ অনেক সময় আমরা ভাবি উপদেশ দিয়ে নেতিবাচক মানুষকে বদলে ফেলব। কিন্তু বাস্তব হল, যারা কেবল নালিশ করতে অভ্যস্ত, তারা সমাধানের চেয়ে সমবেদনা বা মনোযোগ বেশি চায়। তাই তাঁদের বদলে ফেলার দায়িত্ব না নিয়ে বরং নিজেকে ভাল রাখার চেষ্টা করুন।

আপনার চারপাশের পরিবেশ সবসময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না, কিন্তু আপনার মন কার কথায় প্রভাবিত হবে-সেই চাবিকাঠি আপনার হাতেই। নিজেকে ইতিবাচক রাখাটাই এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর সেরা কৌশল।