আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাত জন্মের বন্ধন বোধহয় একেই বলে। স্বামীকে নিয়ে স্ত্রী এতোই ঈর্ষাকাতর যে রোজ সকাল বিকেল লাই ডিটেক্টর পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন স্বামী। অবিশ্বাস্য হলেও এমনই এক দম্পতি রয়েছেন ব্রিটেনে।
ইংল্যান্ডের বাসিন্দা ডেবি উড ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঈর্ষাকাতর’ মহিলা বলে পরিচিত। ঈর্ষা এতই প্রবল যে স্বামী স্টিভকে রোজ বাড়িতে ফেরার পর লাই ডিটেক্টর টেস্ট বা মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করেন তিনি। এমনকী স্বামী যদি শুধুমাত্র মুদিখানার জিনিস কিনতেও বাইরে যান, তাহলেও ফিরে এসে পরীক্ষায় বসতে হয়। এই চরম অবিশ্বাস কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তিনি স্টিভের ইমেল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এমনকী ফোনও পরীক্ষা করেন নিয়মিত। টিভি দেখার সময় যদি এমন কোনও বিজ্ঞাপন আসে যেখানে স্বল্পবসনা নারী রয়েছেন, তবে তৎক্ষণাৎ টেলিভিশন বন্ধ করে দেন ডেবি।
মহিলার এহেন আচরণের নেপথ্যে রয়েছে এক বিরল মানসিক রোগ। রোগটির নাম ‘ওথেলো সিন্ড্রোম’। এই রোগে রোগীর অকারনেই প্রবল ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বাইপোলার ও বডি-ডিসমরফিক ডিজঅর্ডারেও আক্রান্ত। ২০১৩ সাল থেকে চিকিৎসা চলছে তাঁর

তবে এত সন্দেহের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও, স্বামী স্টিভ কিন্তু তাঁর সঙ্গ ছাড়েননি। তিনি স্বীকার করেছেন, মাঝেমধ্যে খুবই কঠিন সময় গিয়েছে। এমনকী কখনও কখনও পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফলাফল অমীমাংসিত এসেছে। কারণ মানসিক চাপ এতই বেড়ে যেত যে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেত। তবে এতকিছু সত্ত্বেও, তিনি এখনও ডেবিকে ‘সোলমেট’ বলেই মনে করেন।