সন্তান আসছে — জীবনের এই আনন্দঘন অপেক্ষার মাঝেই নেমে এল কঠিন আঘাত। প্রযুক্তি সংস্থা মেটা-র এক অন্তঃসত্ত্বা কর্মী সম্প্রতি অনলাইনে জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি শুরুর ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁকে ছাঁটাই করা হয়েছে। তাঁর এই পোস্ট ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে নেট-দুনিয়া।
ওই কর্মীর বক্তব্য, কর্তৃপক্ষকে আগেই তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটির পরিকল্পনা জানিয়েছিলেন। অথচ ছুটি শুরুর মুখেই এসে পৌঁছল ছাঁটাইয়ের নোটিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন — এই সময় নির্বাচন কি নিছকই কাকতালীয়, নাকি এর নেপথ্যে গর্ভাবস্থা ও আসন্ন ছুটিকে ঘিরে বৈষম্য?
সাম্প্রতিক ছাঁটাই-পর্বে মেটা-র একাধিক কর্মী জানিয়েছেন, সন্তানের জন্ম বা চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা অবস্থাতেও তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, বছরের পর বছর ভালো পারফরম্যান্স রেটিং থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ‘নিম্ন পারফর্মার’ তকমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থা ছাঁটাইয়ের কারণ হিসাবে ‘পারফরম্যান্স'-এর কথা বললেও, ভুক্তভোগীদের অনেকেই তা মানতে নারাজ; কেউ কেউ আইনি পরামর্শও নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংস্থার পুনর্গঠন বা ব্যয়সংকোচনের কারণে ছাঁটাই অনেক ক্ষেত্রেই বৈধ হতে পারে। কিন্তু কারও গর্ভাবস্থা বা মাতৃত্বকালীন ছুটিকে যদি ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে তা বহু দেশেই বেআইনি বৈষম্য বলে গণ্য। যদিও তা প্রমাণসাপেক্ষ৷
মেটা-কর্মীর এই ঘটনা কেবল একটি সংস্থার নয়, গোটা কর্পোরেট সংস্কৃতির দিকেই আঙুল তোলে। সন্তানধারণ যেন কোনও নারীর পেশাগত জীবনে শাস্তি হয়ে না দাঁড়ায়। এই সহজ অথচ জরুরি প্রশ্নটিই নতুন করে সামনে এনে দিয়েছেন তিনি।















