দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফের করোনা সংক্রমণের খবর সামনে আসছে। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উদ্বেগ। ইতিমধ্যে কলকাতাতেও থাবা বসিয়েছে এই ভাইরাস। বর্তমানে আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ চিনে সময়মতো পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এবার করোনা সংক্রমণে কারা বেশি ঝুঁকিতে, কী কী উপসর্গ দেখলেই সতর্ক হবেন? এবিষয়ে জানিয়েছেন আরজিকর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাশ্বত ঘোষ।

কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে? ডা. ঘোষ জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত নতুন সংক্রমণের ক্ষেত্রে খুব গুরুতর অসুস্থতা খবর পাওয়া যায়নি। করোনায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যেমন- ৬০ বছরের বেশি বয়স্করা, ডায়াবেটিস থাকলে, হার্টের অসুখ থাকলে, দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগ বা অন্যান্য কমর্বিডিটি থাকা ব্যক্তিরা, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম বলেই জানিয়েছেন তিনি।

কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে? বর্তমানে যে উপসর্গগুলি সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, তা হল-সর্দি, কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা, নাকে গন্ধ না পাওয়া, শরীরে দুর্বলতা বা ক্লান্তি। ডা. ঘোষের কথায়, এগুলি মূলত অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের মতোই সাধারণ উপসর্গ।

কখন সতর্ক হবেন? নিচের পরিস্থিতিগুলিতে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। যেমন-জ্বর, কাশি বা গলা ব্যথা কয়েকদিন ধরে থাকলে, নাকে গন্ধ বা স্বাদ না পেলে, পরিবারের একাধিক সদস্য একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হলে বয়স্ক বা কমর্বিডিটি থাকা ব্যক্তির উপসর্গ দেখা দিলে। চিকিৎসকের পরামর্শে আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করিয়ে কোভিড ধরা পড়লে অবিলম্বে আইসোলেশনে থাকুন, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।

একইসঙ্গে ডা. শাশ্বত ঘোষ বলেন, "করোনাএকটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ। তাই অযথা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার কোনও যুক্তি নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্যারাসিটামল ও বিশ্রামেই রোগী সুস্থ হয়ে যান।"

যে কোনও উপসর্গ থাকলে বিশ্রাম নিন। সঙ্গে পর্যাপ্ত জল পান করুন। প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করুন।ভিড় এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও ওষুধ খান।

করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন  সচেতনতা। বিশেষ করে বয়স্ক এবং কমরবিডিটি থাকা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।