হার্ট অ্যাটাক আর সব সময় আকস্মিক ভাবে ঘটে না। যেমনটা বেশিরভাগ সিনেমায় দেখায়। এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে, খুব অল্প বয়সেই এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা অ্যাসিডিটি, পেশীতে টান বা ক্লান্তিকে অবহেলা করে বিপদে পড়ছেন তাঁরা। এই ধরনের তথাকথিত ‘নিঃশব্দ’ হার্ট অ্যাটাক বিশেষভাবে বিপজ্জনক। কারণ রোগী সমস্যা বুঝে ওঠার আগেই হৃদপিণ্ডে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

চিকিৎসক হর্ষল ইঙ্গল ব্যাখ্যা করেন, “আমরা ক্রমশ দেখছি যে ভারতে হার্ট অ্যাটাক সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত উপায়ে প্রকাশ পায় না। ধূমপান, দীর্ঘ সময় কাজ করা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং মানসিক চাপের মতো জীবনযাত্রার কারণগুলো এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভারতীয়দের জিনগত ভাবে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হল, এটি আর কেবল প্রবীণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। উপসর্গগুলো আড়ালে থেকে যাওয়াই এই সমস্যাকে এত ভয়ঙ্কর করে তুলছে।”

নিঃশব্দ হার্ট অ্যাটাক বিপজ্জনক হওয়ার একটি বড় কারণ হল, শরীর প্রায়শই হৃদরোগের ব্যথাকে ভুলভাবে বোঝে। কার্ডিওলজি বিভাগের পরিচালক ডা. হরিওম ত্যাগী বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা সব সময় বুকে হয় না। হৃদয়, পেট এবং পিঠের পেশীর স্নায়ুপথ একে অপরের সঙ্গে মিলিত থাকে, তাই ব্যথা অন্য অংশেও অনুভূত হতে পারে। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এটি হয় অ্যাসিডিটি, পেটে উপরের  অংশের অস্বস্তি, বা পিঠ এবং কাঁধের ব্যথা। মানুষ প্রায়ই এসব উপসর্গকে হার্টের সঙ্গে যোগ করতে পারে না। অনেকে অ্যান্টাসিড খান, তেল মালিশ করেন বা ভাবেন, এটি চলে যাবে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এগুলি হার্ট অ্যাটাকের প্রথম সঙ্কেত হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “এই উপসর্গের সঙ্গে যদি ঘাম, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্টও থাকে, তখন অবিলম্বে চিকিৎসা করানো জরুরি। যা পেট বা পেশীর সমস্যা মনে হচ্ছে, তা আসলে হার্টের সমস্যা হতে পারে। এটি বুঝতে পারা জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।”

শহুরে জীবনযাপন খারাপ খাদ্যাভ্যাস ধীরে ধীরে হৃদরোগের ধরনকে বদলে দিচ্ছে। কার্ডিওলজিস্ট ডা. চন্দ্র ভানু চন্দন বলেন, “অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান এবং এমনকি দূষণও হৃদরোগের ধরন পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। সিনেমায় দেখা প্রচলিত হার্ট অ্যাটাকের মতো নয়, আজকাল অনেক হার্ট অ্যাটাক শুরু হয় সাধারণ সমস্যা দিয়ে—যেমন অ্যাসিডিটি, ক্লান্তি বা পিঠে ব্যথা। এই ধরনের সমস্যা সাধারণ মনে হওয়ায় মানুষ প্রায়ই এগুলো উপেক্ষা করে। এজন্য নিঃশব্দ হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল—এ ধরনের সমস্যা এখন বয়স্কদের তুলনায় অনেক কমবয়সীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে।”

চিকিৎসকের কথা, “আমরা আমাদের জেনেটিক্স পরিবর্তন করতে পারি না, কিন্তু আমাদের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি। প্রতিদিন ৩০ মিনিটের শারীরিক ক্রিয়াকলাপ, সুষম খাবার, তামাক বা নেশাজাতীয় পদার্থ এড়ানো এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমাতে সাহায্য করে।”
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, অজানা বা অপ্রত্যাশিত উপসর্গগুলোকে অবহেলা না করে গুরুত্ব দিয়ে দেখা। ছোট ছোট প্রতিরোধমূলক সাধারণ ব্যথা বা হজমের সমস্যাকে জীবনঘাতী হার্ট অ্যাটাকে পরিণত হওয়া থেকে আটকাতে পারে।