চুমু ভালবাসা প্রকাশের একটি স্বাভাবিক উপায়। কিন্তু অনেকেই জানেন না, কিছু ক্ষেত্রে চুমুর মাধ্যমেও এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির শরীরে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, চুমু খেলেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। চিকিৎসকদের মতে, সংক্রমণের ঝুঁকি নির্ভর করে দু'জনের স্বাস্থ্যের অবস্থা, মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং কোনও সংক্রামক রোগ আছে কিনা, তার উপর।
চুমুর সময় লালার আদান-প্রদান হয়। এই লালার মাধ্যমে কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। তাই কারও যদি সংক্রমণ থাকে, তাহলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সবচেয়ে পরিচিত সংক্রমণগুলির একটি হল কোল্ড সোর বা ঠোঁটের ঘা। এটি হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস (HSV-1)-এর কারণে হয়। ঠোঁটে ফোসকা বা ঘা থাকলে চুমুর মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্যের শরীরে যেতে পারে। একবার শরীরে প্রবেশ করলে ভাইরাসটি সারাজীবন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে আবার সক্রিয় হতে পারে।
এছাড়া এপস্টিন-বার ভাইরাস (Epstein-Barr Virus বা EBV)-এর কারণে হওয়া মনোনিউক্লিওসিস, যা অনেক সময় 'কিসিং ডিজিজ' নামেও পরিচিত, লালার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এতে জ্বর, গলা ব্যথা, শরীর ভেঙে যাওয়া এবং লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
যদি কারও মুখে ঘা, মাড়ির সংক্রমণ বা দাঁতের গুরুতর সমস্যা থাকে, তাহলে ব্যাকটেরিয়াও সহজে ছড়াতে পারে। তাই মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার। সাধারণ চুমুর মাধ্যমে এইচআইভি (HIV) ছড়ায় না। একইভাবে হেপাটাইটিস বি বা সি-ও সাধারণ চুমু থেকে সহজে সংক্রমিত হয় না। তাই এসব নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
কখন চুমু এড়িয়ে চলবেন? ঠোঁটে ফোসকা বা কোল্ড সোর থাকলে, জ্বর, গলা ব্যথা বা ভাইরাল সংক্রমণ থাকলে, মুখে ঘা বা রক্তপাত হলে, মাড়িতে সংক্রমণ থাকলে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন? প্রতিদিন দু'বার দাঁত ব্রাশ করুন, মুখ পরিষ্কার রাখুন এবং নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে যান, ঠোঁট বা মুখে সংক্রমণ থাকলে তা সম্পূর্ণ না সারা পর্যন্ত চুমু এড়িয়ে চলুন, শরীর খারাপ থাকলে বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চুমু নিজে কোনও বিপজ্জনক বিষয় নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিরাপদ। তবে কারও যদি সংক্রামক রোগ বা মুখে সক্রিয় সংক্রমণ থাকে, তাহলে কিছু জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
















