বলিউডের সবচেয়ে ফিট ও সুপুরুষ অভিনেতাদের তালিকায় যাঁর নাম বরাবরই প্রথম সারিতে, সেই জন আব্রাহাম কিন্তু বর্তমানে পেরিয়েছেন ৫৩-র চৌকাঠ। পর্দায় তাঁর অ্যাকশন অবতার, কঠিন পেশীবহুল চেহারা আর দাপুটে উপস্থিতির পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও জন পরিচিত এক অনমনীয় শৃঙ্খলা ও ফিটনেস-নির্ভর লাইফস্টাইলের জন্য।
যাঁরা তাঁর মতো শরীর গড়ার স্বপ্ন দেখেন, সেই অসংখ্য তরুণের কাছে জন আব্রাহাম আজও অনুপ্রেরণা। প্রায় ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত শরীরচর্চাকরে যাওয়ার ধারাবাহিকতাকেই নিজের ফিটনেসের আসল চাবিকাঠি বলে মনে করেন অভিনেতা। পঞ্চাশ পেরিয়েও তাঁর তারুণ্য আর ফিট লুকের পিছনে যে শুধু জিম নয়, রয়েছে কঠোর ডায়েট মেনে চলার অভ্যাস, তা বারবারই জানিয়েছেন জন।

নিজের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছেন অভিনেতা। দুগ্ধজাত খাবার প্রায় পুরোপুরি বাদ দিয়েছেন তিনি। ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে জন জানিয়েছিলেন, “সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমি আমার ডায়েট থেকে দুধ, মাখন, চিজ -সব বাদ দিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে ডিমও খাই না। এটা আমার কাছে একেবারেই নৈতিক সিদ্ধান্ত।” তবে এখানেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি পুরোপুরি ভেগান বা নিরামিষাশী নন। জনের মতে, ফিটনেসের ক্ষেত্রে ডায়েটের ভূমিকা প্রায় ৬০ শতাংশ। শুটিংয়ের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, কিছু নিয়ম তিনি কোনওদিন ভাঙেন না।
সকালের খাবার কখনও বাদ নয়
জন আব্রাহামের ফিটনেস মন্ত্রের প্রথম নিয়ম -ব্রেকফাস্ট স্কিপ নয়। সময়ের অভাব থাকলেও সকালের খাবার খাওয়াটা তাঁর কাছে অ-আলোচনাযোগ্য! প্রয়োজনে একটু আগে ওঠা বা আগের রাতে খাবার প্রস্তুত রাখা কিন্তু খালি পেটে দিন শুরু করা নয়। তাঁর মতে, দিনের শক্তি আর মেটাবলিজম ঠিক রাখতে সকালের খাবার সবচেয়ে জরুরি।
সারাদিন শরীরকে জ্বালানি জোগানো
জন বিশ্বাস করেন, শরীরকে নিয়মিত ‘ফুয়েল’ দিতে হয়। তাই মাঝেমধ্যেই অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর স্ন্যাকস খান তিনি, যাতে মেটাবলিজম সক্রিয় থাকে এবং শক্তির ঘাটতি না হয়।
দামি ডায়েট নয়, পুষ্টিকেই গুরুত্ব
অভিনেতার ডায়েট প্ল্যান শুনতে খুব সাধারণ। ক্যালোরি গোনায় বিশ্বাসী নন জন। বরং কী খাচ্ছেন, সেটার পুষ্টিগুণ কতটা সেই দিকেই নজর দেন। তাঁর মতে, প্রাকৃতিক চিনি পরিশোধিত চিনির চেয়ে অনেক ভাল। তাই মিষ্টির বদলে ফল খাওয়াই তাঁর পছন্দ।
লোভ সামলান, কিন্তু কার্বোহাইড্রেট বাদ নয়
জনও খাবার ভালবাসেন, এ কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। তবে কোথায় থামতে হবে, সেটা তিনি জানেন। একবার শুটিং সেটে পান্তুয়া আর শিঙাড়া উপেক্ষা করার কথাও শেয়ার করেছিলেন অভিনেতা। তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ -কার্বোহাইড্রেট একেবারে বাদ দেবেন না। ভাত, রুটি, আলু এই সব খাবার পরিমিত মাত্রায় দরকার। জন সাধারণত সকালে কার্বোহাইড্রেট নেন, যাতে সারাদিন শক্তি বজায় থাকে।
জলই জীবনের আসল চাবিকাঠি
খাবারের পাশাপাশি জলপান ও শরীরকে সতেজ রাখার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেন জন আব্রাহাম। চরম ‘ওয়াটার কাট’ তাঁর কাছে একেবারেই নিষিদ্ধ। শুটিংয়ের আগে খুব অল্প সময়ের জন্য জল, নুন বা চিনি কমালেও, সেটা কখনও দীর্ঘমেয়াদি নয়। পর্যাপ্ত জলপান পেশির বৃদ্ধি, ত্বক, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং শরীরের সামগ্রিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য - এ বিশ্বাসেই অটল অভিনেতা।
৫৩ বছর বয়সেও জন আব্রাহামের ফিটনেস তাই কোনও ম্যাজিক নয় বরং বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা শৃঙ্খলা, সচেতন ডায়েট আর ধারাবাহিক পরিশ্রমেরই ফল।
